কোন কথা না বলেই গট্গট্ করে চলে গেল। দেশী ভাইরা যারা অন্য ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল তারা আমার কাছে এসে বলল এমনি করেই আমাদের জীবন এদেশে কাটাতে হচ্ছে। আমাদের ধন আছে কিন্তু মান নেই। আমরা সংখ্যায় মাইনরিটি।
দেখতে দেখতে অনেকগুলি লোক ফুটপাথের উপর জমে গেল। জনতা ফুটপাথ ছেড়ে দিয়ে পথের উপর দাঁড়াল। জনতাকে লক্ষ্য করে বললাম, “যদি আপনাদের এদেশে থাকতে হয় তবে নিগ্রোদের সাহায্য পেতে হবে। এশিয়াটিক এসোসিয়েশনে নিগ্রোদেরও সভ্য করতে হবে, তারপর দেখবেন মুষ্টিমেয় ইউরোপীয়ান্ আপনাদের কাছে মাথা নত করবে।” জনতা বাড়তে না দিয়ে আমিই সরে দাঁড়ালাম এবং তাড়াতাড়ি করে একজন ইণ্ডিয়ানের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। পর্যটক বিদেশে গিয়ে হল্লা করে না, বিদেশের সংবাদ স্বদেশে নিয়ে আসে মাত্র।
পরের দিন সকাল বেলা স্থাসীয় পোষ্টাফিসে গেলাম। পোষ্টাফিসের দুটি দ্বার। একটি দ্বারে লেখা রয়েছে “শুধু ইউরোপীয়ানদের জন্য”, অন্যটিতে কিছুই লেখা ছিল না। যে দ্বারে শুধু ইউরোপীয়ানদের জন্য লিখা ছিল সেটা ছিল পোষ্টাফিসের সামনের দিক, আর যে দ্বারে কিছুই লিখা ছিল না সে দ্বার ছিল পোষ্টাফিসের পেছন দিক। আমি সে দ্বার দিয়েই পোষ্টাফিসে প্রবেশ করছিলাম। দ্বার ডিংগিয়ে গিয়ে পোষ্টাফিসের দরজায় দাঁড়িয়ে দেখলাম একজন অর্দ্ধ-নিগ্রো কাউণ্টারে বসে আছেন। আমার কোনও চিঠি আছে কি না তাই জিজ্ঞাসা করায় তিনি “পোষ্ট রেষ্টে ইসি” ফাইলটি দেখে বললেন “না মাশায়”, লোকটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে চলে আসলাম।
চলে আসার সময় নিগ্রো লোকটিকে “থ্যাঙ্ক ইউ স্যার” বলেছিলাম।