পেছনের গেট পার হয়ে বাইরে আসা মাত্র ভেতর থেকে একজন শ্বেতকায় এসে বলল “নিগ্রোদের” স্যার “বলতে নেই, এতে ভারতবাসীর পক্ষে বদনাম এবং অপমান হয়।” শ্বেতকায় কর্মচারীটিকে বললাম আমার কাছে শ্বেতকায় এবং কৃষ্ণকায়ে কোনও প্রভেদ নেই, অতএব দরকার বোধে সবাইকেই স্যায় বলব। কিন্তু কারো পদাঘাত সহ্য করব না। তোমাদের পোষ্টাফিসে আসা আমার নিতান্ত অন্যায় হয়েছে—ঐ দেখ লিখা রয়েছে শুধু ইউরোপীয়ানদের জন্য। আজ যদি আমি তোমাদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নেই তবে আগামী কল্য যে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব। “তোমার উপদেশের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ মাশায়।” লোকটি আর কোন কথা না বলে আফিসে চলে গেল!
সেদিন সকাল বেলা কালার্ড স্কুলে একটি সভা হয়। সভায় সভাপতির আসন পাঠান মহাশয়ই গ্রহণ করেন। সর্বপ্রথমই কালার্ড স্কুল কাকে বলে সে কথাটি আমায় বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেছিলেন এই স্কুলে শুধু অর্দ্ধ-নিগ্রো এবং এশিয়াটিকরাই প্রবেশ করতে পারে। খাঁটী নিগ্রোদের এখানে প্রবেশ নিষেধ। আমার লেকচারের সময় অন্যান্য দেশের কথা শেষ করে কালার্ড স্কুল সম্বন্ধেই কিছু বলতে হয়েছিল। “বলছিলাম আপনারা শ্বেতকায় দ্বারা ঘৃণিত হন।” স্বচক্ষে দেখলাম আপনারা পোষ্টাফিস এবং লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে পারেন না। ঘৃণার প্রতিশোধ নির্যাতিত জাতকে ঘৃণা নয়, নির্যাতিতদের উন্নত করা এবং নিজের সমপর্যায়ে টেনে আনাই হল ঘৃণার প্রকৃত প্রতিশোধ।
রাত্রে নিগ্রো এবং ইণ্ডিয়ানরা মিলে আমাকে এক ভোজ দেন। ভোজে খাদ্যের প্রাচুর্য হয়েছিল। যা রান্না হয়েছিল তার এক-তৃতীয়াংশও খাওয়া হয়নি। পরের দিন সকাল বেলা গ্রামের গরীব নিগ্রোরা খাদ্যের সদ্ব্যবহার করেছিল। ভোজের আয়োজন দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম এ