বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৩২

যেন বাংলা দেশের ব্রাহ্মণ ভোজন। কিছু খাওয়া হবে আর কিছু ফেলা।

 ভোজ হতে বিদায় নিয়ে যখন লালজীর ঘরের দিকে আসছিলাম তখন নীল আকাশের সুন্দর চন্দ্রালোকে শ্বেতকায় যুবক-যুবতীগণ তাদের জাতের পরিচালিত রেঁস্তোরায় বসে আনন্দ করছিল আর আময়া চোরের মত পথ চলছিলাম। ইম্‌তালীতে ভারতবাসী এবং অর্দ্ধ-নিগ্রোর সংখ্যা শ্বেতকায়দের চারগুণ হবে কিন্তু স্বভাবের দোষে নিজেদের রেস্তোরা অথবা হোটেল ছিল না। আমাদের দেশের লেখক অথবা কথকগণ রেস্তোরা অথবা রাত্রি যাপনের হোটেলের কথা উঠলেই ভারতবাসীর প্রাচীন আতিথ্যের অহংকার করেন এবং জোর গলায় ইউরোপীয় সভ্যতাকে তৃতীয় শ্রেণীর সভ্যতা বলে গাল দেন। কিন্তু সেরূপ লোকের মুখেই আবার বাহাদুরীপূর্ণ ভাষায় বলতে শুনা যায় “আজ অমুক রেস্তোরায় খেয়ে আসলাম, কাল অমুল হোটেলে শুয়েছিলাম। আফ্রিকাতে আঠার মাস লোকের বাড়ীতে থেকে এবং খেয়ে আমার যতটুকু অধঃপতন হয়েছিল তেমনটি আর কিছুতেই হয়নি। যাদের মনের বিকাশ হয় নাই অথবা স্বাধীন ভাব মনে জাগরিত হয় নাই তারাই পরের বাড়ীতে খেতে এবং শুতে কোনরূপ কষ্টানুভব করে না।