সেতুটি পার হবার পর নদী তীরে অনেকক্ষণ বসলাম। সাধারণত কোথাও বসে থাকতে ভালবাসতাম না, গন্তব্যস্থানে পৌঁছে বিশ্রাম করাই ছিল আমার অভ্যাস, কিন্তু সেতুর পার্শ্বের প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী আমাকে আকর্ষণ করেছিল। সেজন্যই বসতে বাধ্য হয়েছিলাম। ভাবছিলাম এমন সুন্দর দৃশ্য ভারতের কোন কোন স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। মনে হল মাতৃভূমিতে চৈত্র মাসের কথা, বৃক্ষরাজি তখন নব পল্লবে শোভিত হয়, নানা রকমের পাখী তখন সুমধুর রাগিনীতে গান করতে থাকে। কোকিল কুহু কুহু স্বরে ডাকে। এখানে এসেও কোকিলের ডাক শুনলাম, কোকিলের ডাক আমাকে বসিয়ে রেখেছিল। সব ভুলে গিয়েছিলাম, হঠাৎ মনে হল আমি অবাস্তবী ভাবপ্রবণ। তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম, কিন্তু যাই কোথায়? আজ ত আমাকে এখানেই থাকতে হবে। নিগ্রোদের গ্রাম পথের কাছে কোথাও ছিল না। নিগ্রোরা যে-সকল গ্রামে থাকে সে-সকল গ্রামে সাইকেল নিয়ে যাওয়া চলে না। পথের পার্শ্বে কয়েকটি নিগ্রোর সংগে দেখা হল। তারা অনর্গল ইংলিশ বলতে পারত। তাদের মধ্যেই একজন শ্লেষ করে বলল “বানা (নিষ্টার) তোমরা আমাদের সংগে থাকতে ভালবাস না আবার শ্বেতকায়রাও তোমাদের দেখতে পারে না। যদিও আমাদের গ্রাম এখান হতে বহুদূরে তথাপি তোমাকে আমাদের গ্রামে নিয়ে যেতান, কিন্তু নিব না। পাশের শ্বেতকায় লোকটির বাড়ীতে রেখে আসব। এক রাত এদের সংগে কাটাও বেশ জ্ঞান হবে, চল নিয়ে যাই। নিগ্রো লোকটির কথায় প্রতিবাদ করলাম না। তার সংগে চললাম। কতক্ষণ চলার পর সে আমাকে একজন শ্বেতকায় লোকের বাড়ী দেখিয়ে দিল। শ্বেতকায় লোকটি জাতে বুয়র। তার বাড়ীর কাছে যেয়ে দেখলাম বাড়ীর চারদিক কাটাওয়ালা লোহার তার দিয়ে ঘেরা। অতিকষ্টে সাইকেলটা লোহার
পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৩৮
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৩৪