বিদেশীরা লেপে দেয়। কোনও তুরুক আরব অথবা ইরাণী নিজেদের মুসলমান বলে পরিচয় দেয় না, শুধু ভারতের লোকই ধর্মের নামে নিজের জাতের পরিচয় দেয়।
যে মুহূর্তে বুয়র ভদ্রলোক আমাকে কুলি বলে সম্বোধন করলে সেই মুহূর্তে আমার পা হতে মাথা পর্যন্ত একটা বিদ্যুত বয়ে গেল তারপরই মন আবার শান্ত হল, মনে হল হাওড়া আর শিয়ালদহ ষ্টেশনের কুলির কথা। তারা কি আমাদের পর? তারা আমাদের পর না হলেও তাদের আমরা নিজের লোক ভাবি না। যেদিন আমারা কুলিদের টেনে উঠাতে পারব সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার বুয়রদের বলতে পারব “তোমরা আমাদের কুলি বল আর যা ইচ্ছা তাই বল, আমাদের দেশের মানুষের আত্মসম্মান আছে, প্রচুর খেতে পাচ্ছে, শুইবার সুন্দর ঘর আছে।”
মনের কথা মনেই থাকল বুয়র লোকটীর সংগে কথা আরম্ভ হল, দেখলাম লোকটীর মন পরিষ্কার, গোপন রেখে কোন কথাই বলছে না। কথার মধ্যে আমার প্রতি উদ্দেশ করে “স্যার” শব্দটীও মাঝে মাঝে ব্যবহার করছে।
কথা প্রসংগে বুয়র লোকটীকে জিজ্ঞাসা করলাম “আপনার দেশ হল দক্ষিণ আফ্রিকাতে, এদেশে কি করে রেল কোম্পানীর ঘর পেলেন?”
বুয়র ভদ্রলোক হেসে বললে “ওহো সে-কথা, রডেসিয়া এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার মত সমৃদ্ধিশালী হয় নাই, এদেশের রেলপথ দক্ষিণ আফ্রিকার মূলধনে পরিচালিত হয় এবং সেজন্যই আমরা এদেশে চাকরী পেয়ে থাকি। রডেশিয়াতে যদিও ডোমিনিয়ন ষ্টেটাশ রয়েছে তবুও দেশটীর দক্ষিণ আফ্রিকার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এই ধরুন দেশরক্ষা। রডেশিয়াতে পল্টন নাই। এই যে দেখছেন নিগ্রোরা