আমাদের চারিপার্শ্বে বসে রয়েছে এরা কি কম, পারলে মানুষের মাংস পর্যন্ত খেতে চায়। এদের যদি সায়েস্তা করে রাখতে হয় তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক সাহায্য নিতে হবেই।
এদেশের নিগ্রোরা কি মানুষের মাংস খায়? প্রশ্নটী জিজ্ঞাসা করেই বুয়র ভদ্রলোকের দিকে চেয়ে থাকলাম।
তিনি বললেন এরা সবই খেতে চায়, মানুষ হত্যা করে সারতে পারে না বলেই মানুষের মাংস খায় না।
বুঝতে পারলাম বুয়র ভদ্রলোক নিগ্রোদের প্রতি হাড়ে হাড়ে চটা, সেজন্য তিনি তাদের বিরুদ্ধে এরূপ মন্তব্য করতে কোনরূপ দ্বিধা করছেন না।
বুয়র লোকটির সংগে কতক্ষণ কথা বলার পরই সন্ধ্যা হয়ে এল। বুয়র-গিন্নী কতক্ষণ পর এক পেয়ালা দুধ, চিনি মিশ্রিত কাফি আর একটুকরা শুকনা রুটী আমার হাতে দিলেন। কাফির কাপে চুমুক দিতেই বুঝলাম এই রকমের কাফি নিগ্রোদেরই দেওয়া হয়। রুটীর টুকরাটা দেখেই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম, স্পর্শ করতেও ইচ্ছা হয় নাই এবং স্পর্শ করিও নাই। কাফির পেয়ালা কোনমতে নিঃশ্বেষ করে পেয়ালাটাকে এক দিকে রেখে দিলাম তারপর আবার কথা আরম্ভ হল।
বুয়র ভদ্রলোক কয়েকটী কথা বলেই বাইরের বারান্দাটা একটা ত্রিপল দিয়ে ঘিরে দিয়ে বললেন, এরই ভেতর আপনাকে শুতে হবে। আপনার কোন ভয় নাই পাশেই আমার কুকুরটী শুয়ে থাকবে। কোনও হিংস্রজীব যদি আপনার গন্ধ পেয়ে এদিকে আসে তবে কুকুরই চিৎকার করবে প্রথম। আমার কাছে বেশ ভাল বন্দুক আছে, অতএব মরবার ভয় খুবই কম। এই বলেই বুয়র মহাশয় স্ত্রী-পুত্রকে সংগে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন। বাইরে থাকলাম আমি এবং তার কুকুর! কুকুরটি বড়ই