ভাল। সে বোধহয় জানতে পেরেছিল আমিও তার স্বজাতি, তাই চুপ করে আমারই কাছে শুয়ে থাকল। আমারও ভাবনার কিছুই ছিল না। বারান্দার তক্তাগুলির উপর শরীরটাকে এলিয়ে দেওয়া মাত্রই ঘুম এল। পরের দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই পাশের কুকুরটাকে সরিয়ে দিয়ে সাইকেলখানা বাইরে নিয়ে গৃহস্বামী বুয়রকে ডাকলাম। ভদ্রলোক উঠলেন এবং বললেন, সুপ্রভাত মিষ্টার কুলি, রাতটা কেটেছে ভালই এখন চল্লেন না কি?
হাঁ স্যার, এখন যাই আপনাকে ধন্যবাদ, রাতটা এক ঘুমেই কেটেছে। বিদায় নিয়ে সাইকেল কাঁটাসমন্নিত লোহার তারের বেড়া ডিংগিয়ে পথে গিয়ে ভাবলাম, পথ তুমিই ভাল। যারা আমাকে এবং আমার জাতের লোককে ঘৃণা করে তাদের বাড়ী না গিয়ে তোমার আশ্রয় নেওয়াই কর্তব্য। এই ভেবে এগিয়ে চল্লাম অজানা দেশের অজানা পথে।
রুসাপী (Rusapi) ছিল আমার গন্তব্য স্থান। কয়েক মাইল যাবার পরই ক্রমাগত চড়াই পাচ্ছিলাম। সেজন্য বেশ কষ্ট হতে লাগল। গত রাত্রে খাওয়া হয়নি, এতে শরীরটা খুবই দুর্বল হয়েছিল। পেটের বেল্টটা আরও কষে অগ্রসর হতে হল। কতক্ষণ যাবার পর পথেরই পাশে কয়েকটি নিগ্রো ছেলেকে খেলতে দেখে ভাবলাম এদের গ্রাম নিকটেই আছে। চারিদিকে চেয়ে দেখলাম গ্রাম কোথাও নেই।
একটি নিগ্রো ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলাম তোমাদের গ্রাম কোথায়? ছেলেটি আগের পথটাই দেখিয়ে দিল। মাইল তিনেক যাবার পর ছোট্ট একখানা নিগ্রো গ্রাম পেলাম। গ্রামের অবস্থা শোচনীয়, ঘরগুলি ভেংগে পরেছে। একজন নিগ্রোকে বসা দেখে তার হাতে একটি শিলিং দিয়ে বললাম “রুটি”। লোকটি খাদ্য চাইছি বুঝল এবং আমাকে টেনে নিয়ে গ্রামের পেছনে একখানা দোকান দেখাল। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।