দোকানে যে লোকটি কাজ করত সেও নিগ্রো। নিগ্রোরা সকল সময়ই একান্ত বাধ্য। তাকে বলে খাবারের বন্দোবস্ত করলাম এবং তারই বিছানায় কতক্ষণ বিশ্রাম করে রুসাপী নামক স্থানের দিকে রওয়ানা হলাম।
কতক্ষণ চলার পরই পথের পার্শ্বে কতকগুলি নিগ্রোকে কাজ করতে দেখে দাঁড়ালাম। তাদের শরীরে একটুকরাও বস্ত্র ছিল না। আমাদের দেশে দরিদ্র লোক যেমন করে নেংটী পরে কাজ করে ঠিক্ তেমনি তাদের নেংটীই ছিল। সে নেংটী ছিল চামড়ার। আমাকে দাঁড়াতে দেখে একজন লোক কাছে আসল এবং বলল তাদের কিছু শিলিংএর দরকার সেজন্য তারা আজ কাজ করছে। তাদের নিযুক্তকারী বলেছেন যদি তারা পথে ভাল কাজ করে তবে আজ রাত্রে যে বিয়ে হবে তাতে প্রচূর মদ খেতে দিবেন। তাদের জিজ্ঞাসা করলাম “যে গ্রামে বিয়ে হবে সে গ্রাম কতদূর?” একজন আংগুল গুনে বলল চার-পাঁচ মাইল দূর হবে। ভাবলাম আজ নিগ্রোদের বিয়ে দেখতে হবে। লক্ষ্য করার বিষয় লোকটীকে আমি ডাকি নাই অথচ সে আমার কাছে আসল এবং কেন কাজ করছে তাই অনর্গল বলে ফেলল। এসব হল মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ।
চার পাঁচ মাইল পথ ঘণ্টা খানেকের মধ্যে চলে গিয়ে দেখলাম পথের পাশেই একখানা গ্রাম। গ্রামে লোকজন নেই বল্লেই চলে। গ্রামের কাছেই এক পাশে তিনটী বৃষ এবং চারটী গাই একটা গাছের সংগে বাঁধা ছিল। গরুগুলি দেখেই মনে হল এখানে কোথাও বিয়ে হবে। সাইকেলটী দাঁড় করিয়ে নিকটস্থ ছোট্ট নদীতে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে একটী ঘরের দাওয়ায় বসলাম। কতক্ষণ বসে থাকার পর তন্দ্রা আসল। বিছানা না করেই ডান হাতকে বালিশ করে শুয়ে পড়লাম।