কতক্ষণ ঘুমানোর পর উঠে বসলাম। বসে ছিলাম অনেকক্ষণ তারপর একটী যুবক আসল। যুবকের বয়স পঁচিশের কম হবে না। সে আমার দিকে চেয়ে থেকে বলল তারই বিয়ে। গরু দেখিয়ে বলল এসব পাবে মেয়ের মা এবং একটা বৃষ দেখিয়ে জানাল এটাকে আর কতক্ষণ পরই হত্যা করা হবে। বিয়েতে যারা আসবে তারা এই বুষের মাংসের রোষ্ট খাবে। যুবককে বললাম “আজ এখানেই থাকব।” আমি যেই বললাম আজ এখানেই থাকব আর তাকে পায় কে। লাফ দিয়ে ঘরের চালের ছন ছুইল, গরুগুলিকে পদাঘাত করল, তারপর মাটীতে পরে একটা উল্টোবাজি খেয়ে আমার সংগে করমর্দন করল। আমি যদি সেই আনন্দের দৃশটী প্রথম দিনই দেখতাম তবে নিশ্চয়ই ভয় পেতাম কিন্তু নিগ্রোদের সংগে ক্রমাগত সাত আট মাস থাকার দরুণ এদের আচার ব্যবহারে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে ছিলাম। যুবকের হাভভাব দেখে মনে হ’ল তার বিয়েতে নিগ্রো ছাড়া ভিন্ন জাতের লোক উপস্থিত থাকবে না।
যুবকের আনন্দ দেখে বেশ সুখী হলাম। চা খাবার ইচ্ছা হচ্ছিল। যুবককে বললাম এই নাও এক শিলিং, দেখত একটু চায়ের যোগাড় করতে পার কি-না। যুবক শিলিংটী হাতে নিয়ে নিকটস্থ দোকানে গিয়ে মস্ত বড় কাপে এক কাপ চা নিয়ে আসল। চা খেয়ে বেশ আরাম পেলাম। ইচ্ছা হল গ্রাম্য দোকানে গিয়ে দোকানের অবস্থা দেখি কিন্তু তা আর হয়ে উঠল না। ইতিমধ্যে কয়েকজন লোক আসল এবং একটী ডুমুরু বাজিয়ে নৃত্য আরম্ভ করল। তাদের প্রত্যেকের পরনেই চামড়ার বেল্ট ছাড়া আর কিছুই ছিল না। নৃত্য আরম্ভ হওয়ার সংগে সংগেই মেয়ের মা আসল এবং একটা বৃষকে ছেড়ে দিল। বুষটা মুক্ত হওয়া মাত্র দৌড়াতে থাকল। যারা নৃত্য আরম্ভ করছিল তারা বৃষের পেছন দিকে নানারূপ অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করল। বৃষটা বেশীক্ষণ দৌড়াতে পারল না।