পশুরা পশু হত্যা করল। তারপর পশু মাংস একটা ঘরে অতি যত্নের সহিত রাখল। মেয়ের মা বৃষ মাংস অর্দ্ধপক্ক হবার পর সর্বপ্রথম কিছুটা খেয়ে নিল। তারপর তার মেয়েটীকে নানারূপ ঝিনুকের গহনায় সজ্জিত করে সকলের সামনে আনল। মেয়েটী অবনত মস্তকে একখানা চামড়া দিয়ে সমস্ত শরীর ঢেকে দাঁড়াল। ছেলেটীও মস্তবড় একখানা মহিষের চামড়া দিয়ে সর্বাংগ জড়িয়ে দাঁড়াল। তারপর নবাগতেরা এবং গ্রামবাসীরা সকলে যুবক যুবতীর চারদিকে দাঁড়িয়ে কতক্ষণ গান গাইল, গানের পরে অনেকক্ষণ নৃত্য করল। নৃত্য হয়ে গেলে নব বিবাহিত যুবক যুবতী অন্ধকারে উধাও হয়ে গেল। গ্রামবাসীরা গোমাংসের সংগে ভুট্টার ছাতু মিলিয়ে যা পাক করল সকলে মিলে তাই খেল। আমি যে একজন বিদেশী তাদেরই কাছে বসে আছি সেদিকে কিন্তু তাদের দৃষ্টি ছিল না। খাওয়া হয়ে গেলে অন্য গ্রামের লোক নানারূপ গান গেয়ে বিদায় নিল এবং গ্রামের লোক আপন আপন ঘরে শয্যা গ্রহণ করল।
তখনও আমার খাওয়া এবং ঘুমানোর বন্দোবস্ত হয় নাই। এখন কি করতে হবে তাই নিয়ে মহাসমস্যায় পড়লাম। সাইকেলটা সংগে করে নিয়েই গ্রাম্য দোকানের দিকে অগ্রসর হলাম। কতক্ষণ যাবার পরই দেখতে পেলাম প্রকাণ্ড একটা বাতি জ্বলছে। বাতির কাছে কতকগুলি লোক নৃত্য করছে। তাড়াতাড়ি করে সেখানে গিয়ে দোকানীকে আমার জন্য কিছু খাবারের বন্দোবস্ত করতে বললাম। দোকানী বেশ ভদ্রলোক, সে গ্রাম্য আনন্দ পরিত্যাগ করে আমার জন্য ভাত রেধে দিল। আমি ইত্যবসরে স্নান করে এলাম। দোকানে মাখন, এবং ক্রিম ছিল। রাত্রে খাবারের বেশ ভালই বন্দোবস্ত হল। খাবারের পর যে ক্রিমটুকু ছিল তাই দিয়ে কাফি তৈরি করে খেয়ে নিগ্রোদের গান শুনলাম। নিগ্রোরা বিদেশী মদ ত খেয়েছিলই উপরন্তু তাদের নিজেদের