বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

ভাবে বাস করতে কোনই কষ্ট হয় না, তবুও নূতন গ্রাম, নূতন মানুষ একথাটাই আমাকে একটু চিন্তিত করে তুলেছিল।

 বেলা হচ্ছিল, গ্রামে বেশীক্ষণ বসে থাকা ভাল হবে না ভেবে অনিচ্ছা সত্বেও গ্রাম পরিত্যাগ করলাম।

 নিগ্রো গ্রাম হতে বের হয়ে পুনরায় পথে এলাম। পথের দুপাশে কয়েকট বড় বড় গাছ দেখতে পেলাম। গাছগুলি আমাদের দেশের কদম গাছের মত। দেখতে বড়ই সুন্দর! গাছের গায়ে কে বা কাহারা কতকগুলি টীনের পাতে “ভোট ফর্” লিখে এটে দিয়েছিল। বুঝলাম এদেশে ইলেকশন্ আরম্ভ হয়েছে। যতই এগিয়ে যেতেছিলাম ততই “ভোট ফর্” সংখ্যা বেড়ে চলছিল।

 দক্ষিণ রডেসিয়াতে অনেক ভারতবাসীর বাস। তাদের ভোট আছে, কিন্তু নিজের লোক পার্লামেণ্টে পাঠাবার অধিকার নাই অথবা কোন ইণ্ডিয়ানের পক্ষে রডেসিয়ার পার্লামেণ্টে সভ্য হবার অধিকার নাই। বৃটেনে ইণ্ডিয়ানদের সে অধিকার আছে। এখানে ইণ্ডিয়ানদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পার্লামেণ্টে একজন সভ্য থাকেন, সেই সভ্যকে ইণ্ডিয়ানরা ভোট দিয়ে পাঠায়।

 “ভোট ফর্” বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখে মনে হল ইণ্ডিয়ানরা এপথে আসা-যাওয়া করে, কিন্তু কখন? একটী ইণ্ডিয়ানকেও যে পথ চলতে দেখতে পাচ্ছি না। যে দু’একখানা মোটরকার দেখতে পাচ্ছি তাতে শুধু ইউরোপীয়ানরাই যাওয়া আসা করছে।

 রূপাসী তখনও অনেক দুরে। পথের দু’পাশে প্রাকৃতিক দৃশ্যও ছিল। শরীর অবসন্ন হয়ে আসছিল সেজন্য পথে দাঁড়ালাম। অনেকক্ষণ বিশ্রামের পর রূপাসীর দিকে রওয়ানা হবার পূর্বে ইচ্ছা হল জংগলে বেড়ালে ভাল হবে। এমন সুন্দর বন কি আর দেখতে পাব? কিন্তু