সংগে খাদ্য না থাকায় বনের সৌন্দর্য ভুলে শহরের দিকে রওয়ানা হতে বাধ্য হলাম!
রূপাসী গণ্ডগ্রাম। গ্রামের বাসিন্দা সকলেই ইণ্ডিয়ান। ভারতবাসী অধ্যুসিত গ্রামে পৌঁছে মনে হল না সেখানে ভারতবাসী বাস করে। রাস্তা পরিষ্কার, বাড়ীগুলির সামনে সামান্য আবর্জনাও দেখতে পাওয়া যায় না। ঘরের বারান্দা হতে আরম্ভ করে যতটুকু দেখা যায় কোথাও একটুও আবর্জনা নাই। মেথর অথবা ঝারুদারদেরও প্রলচন নাই। গ্রামটি ইণ্ডিয়ান নয় মনে হবার বিশেষ কারণ হল আমাদের বাইরে বেড়ানো অভ্যাস, এখানের লোক ঘরের বাইরে বেড়ায় না। দরকার বোধে খেলার মাঠে যায়, মোটরে গ্রামান্তরে যায় কিন্তু পথে অনর্থক পাইচারী করে না।
গ্রামে নানা রকমের লোক। তামিল, তেলেগু, গুজরাতী এবং দু’একজন হিন্দুস্থানী। একজন গুজরাতী ভদ্রলোকের বাড়ীতেই অতিথি হলাম। গুজরাতী ভদ্রলোক যুবক, হালে বিয়ে হয়েছে। বাড়ীতেই ছিলেন। অতিথি থাকবার ব্যবস্থা থাকায় আমার জন্য কিছুই নূতন করে করতে হল না। অতিথির জন্য বাথরুম এবং সুন্দর বিছানা ছিল।
গুজরাতীদের মধ্যে স্ত্রীস্বাধীনতা আছে। নব বিবাহিত যুবতী আমাকে দেখতে এলেন। তার মুখে একটুও সঙ্কোচ ছিল না। আমার জন্য এক পেয়ালা চা এনে যুবতী বললেন “চা খাও”।
চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম “তুমিই বোধহয় এবাড়ীর গৃহকর্ত্রী?”
হাঁ, তুমি ডাল ভাত খাও?
হাঁ, আর কি খাব? ভাত বেশী করে পাক করো, তোমাদের মত অল্প চারটে ভাত খেয়ে আমার পেট ভরে না।