বেশ তাই হবে। বেশী করে ভাত রাঁধব, দেখব তুমি কত ভাত খেতে পার।
যুবতীর স্বাধীন ভাবে কথা বলা দেখে মনে হল তার জন্ম ভারতে হয় নাই। যদি এই যুবতীর জন্ম ভারতে হত তবে এরূপ পরিষ্কার এবং সহজভাবে আমার সংগে কথা বলতে পারত না।
যুবতী চলে গেলে একটু বিশ্রাম করলাম এবং নিকটস্থ ইউরোপীয়ান গ্রাম দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। ইণ্ডিয়ান্ গ্রাম হতে ইউরোপীয়ান গ্রাম বেশী দূরে নয়। তাদের বাড়ী বাংলো ধরণের। যদিও তাদের গ্রামে একশত লোকেরও বসতি হবে না, তবুও তাদের গ্রামে চায়ের দোকান, হোটেল, প্রমোদ উদ্যান সবই রয়েছে। রেঁস্তোরা অথবা চায়ের দোকান দেখার মত জিনিষ। দোকানগুলি সজীব লতাপাতা দিয়ে সাজানো। টেবিল চেয়ার যদিও মামুলী কাঠের তৈরী কিন্তু প্রত্যেকটী জিনিষ আরামদায়ক এবং নয়নাভিরাম। ইউরোপীয়ান গ্রামে পৌঁছে সাইকেল একটা ল্যাম্পপোষ্টে দাঁড় করিয়ে রেঁস্তোরায় একখানা চেয়ারে বসলাম। ইউরোপীয়ান্ বয় তখন কাজে ব্যস্ত ছিল। কাজ হতে ফিরে আমাকে দেখতে পেয়েই জিজ্ঞাসা করল “কি চাই?”
ক্রিম চাই, কোয়ার্টার পাউণ্ড ক্রিম নিয়ে এস ত!
বয় কিছু না বলে একটা কাগজের ঠোংগায় কোয়ার্টার পাউণ্ড ক্রিম নিয়ে এল! তাকে তার প্রাপ্য এক শিলিং দেবার পর ঠোংগাটা মুখে ঢেলে দিয়ে নিমিষের মধ্যে ক্রিম নিঃশেষ করে ঠোংগাটা পকেটস্থ করলাম কারণ ঠোংগা ফেলার মত স্থান সেখানে ছিল না।
চলে আসার সময় বয় বলল এখান থেকে ক্রিম কিনতে পার কিন্তু কখনও চেয়ারে বসো না। দাঁড়িয়ে থেকে আমাকে ডাকবে?
চেয়ারে বসব ক্রিমও খাব দেখব তুমি কি করতে পার।