বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৫২

করে দিল, তারপর গরম জল করে স্নান করতে বলল। ধারাবাহিকভাবে একটার পর একটা করে খাওয়া থাকার কাজ হয়ে গেলে বয়কে বলে শরীর হতে কয়েকটি ডু ডু পোকা বের করিয়ে নিলান। নিগ্রো লোকটি বড়ই গল্প-প্রিয়। সে যখন আমার হাত এবং পা হতে ডু ডু পোকা বের করছিল তখন একটি মজার গল্প বলছিল।

 এই গ্রামেরই একটি নিগ্রো সেলিশবারীর এক ধনী শ্বেতকায়ের বাড়ীতে কাজ করত। ধনী লোকটির অনেকগুলি মেয়ে ছিল। মেয়েদের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়েটির স্বভাব চরিত্র অনেকটা তার বাবার মতই ছিল। তার বাবা ছিলেন বড়ই উদার, তিনি নিগ্রোদের মানুষ বলেই স্বীকার করতেন এবং মানুষের মতই ব্যবহার করতেন। তার নিগ্রো চাকরদের কাউকে দশ শিলিং-এর কম সাপ্তাহিক মাইনে দিতেন না। নিগ্রো চাকরদের থাকবার জন্য সুন্দর ঘরের বন্দোবস্ত ছিল। উদার শ্বেতকায়ের বাড়ীতে যে সকল নিগ্রো বাস করে তাদের স্বভাব এবং চরিত্র শ্বেতকায়দের মতই গড়ে উঠে। শ্বেতকাররা যেমন করে স্ত্রী জাতির সম্মান দেখায় তারাও ঠিক সেরূপ সম্মান দেখাত এবং অন্যান্য আচার-ব্যবহারের দিক দিয়েও নিগ্রো চাকরেরা ইউরোপীয়ান রীতি অনুকরণ করছিল। প্রকৃতপক্ষে নিগ্রো চাকরেরা ইউরোপীয়ানদের ভাল গুণ সবই গ্রহণ করেছিল কিন্তু তাদের বিবাহ প্রথা গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছিল না। নিগ্রোদের বিবাহ প্রথা ইউরোপীয়ানদের বিবাহ প্রথা হতেও ঔদার্যপূর্ণ এবং যখন ইচ্ছা তখন স্বামী এবং স্ত্রীতে বিবাহ ভঙ্গ করা যায়। নিগ্রোদের মতে ইউরোপীয়ানদের বিবাহ প্রথা খুবই কঠোর নিয়মে আবদ্ধ সেজন্য তারা খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেও খৃষ্টধর্ম মতে বিবাহ কার্য সম্পন্ন করে না।

 দুঃখের বিষয় শ্বেতকায়ের দ্বিতীয় মেয়েটি তাদের গ্রামের একটি নিগ্রো যুবককে বিবাহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। যুবক খুব ভাল করেই