বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৫৪

কেউ তত ঘৃণা করে না। সেজন্য নিগ্রো যুবক কলম্বো বন্দরেই আজীবন কাটাতে মনস্থ করল। এই রকমে অনেক নিগ্রো যুবক শ্বেতকায় রমণীদের দ্বারা অপহৃত হয়ে বিদেশে যেতে বাধ্য হয়। যদি তাদের বিবাহে আমাদের মত কঠোর নিয়ম থাকত তবে তাদের বিবাহিত স্ত্রীদের কত কষ্ট পেতে হত তার কথা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

 নিগ্রো বয়ের গল্পের শেষে তারই সজ্জিত বিছানায় শুয়েছিলাম। এখানেই সর্বপ্রথম দেখলাম এক জন নিগ্রো চাকর ইউরোপীয়ান ধরণে লোহার খাটের উপর জাজিম পেতে বিছানায় শুয়ে। যদিও গ্রামে একটিও মশা ছিল না তবুও নিগ্রো বয় মশারী খাটিয়ে ছিল।

 রডেসিয়ার রাষ্ট্রকেন্দ্র সেলিশবারী। সেখানে পৌঁছবার জন্য প্রাণটা আইঢাই করছিল। তাড়াতাড়ি করে সেলিশবারীতে যাবার দুটি কারণ ছিল। প্রথম কারণ সেলিশবারীর জেনারেল পোষ্টাফিসে আমার অনেকগুলি চিঠি দেশ-বিদেশ থেকে এসে জমা হয়েছিল। দ্বিতীয় কারণ হল জংলী পথে চলতে আর ভাল লাগছিল না! সেজন্য ছোট ছোট গ্রামগুলিতে রাত কাটিয়েই সেলিশবারীতে পৌছিতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পথের দূরত্ব আমাকে একটুও দয়া দেখায় নাই৷

 চিঠির প্রলোভন ভুলতে বাধ্য হয়েছিলাম। এদিকের প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং শিক্ষিত নিগ্রোর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছিল।

 সেলিশবাড়ীর পথে একদিন একটি ছোট্ট নিগ্রো গ্রামে থাকতে হয়। গ্রামটি একেবারে ইউরোপীয় ধরণের। গ্রামের স্ত্রী-পুরুষ সকলেই বেশ শিক্ষিত এবং সভ্য। যে বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিলাম সেই বাড়ীতেই একজন আমেরিকান নিগ্রো মহিলা আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি ভূতত্ব এবং নৃতত্বে অভিজ্ঞ ছিলেন। সেই মহিলা আমাকে দেখতে পেয়ে মোটেই সুখী হন নাই। বরং যাতে আমি গ্রামে থাকতে না পারি তারই