বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৫৬

ভেবে কিছুই ঠিক করতে পারছিলেন না, ঘরের ভেতর চলে গেলেন। ঘরের মালিককে বললাম যদি আপনার ঘরে থাকার স্থান না হয় তবে অন্যত্র বন্দোবস্ত করে দিন। ঘরের মালিক মহা ফ্যাসাদে পড়লেন। হঠাৎ তার মনে হল গ্রামে একজন ভারতবাসী আছেন। ঘরের মালিক আমাকে তার ঘরে বসিয়ে ইণ্ডিয়ানের বাড়ীতে গেলেন। ইণ্ডিয়ান তখন ঘরে ছিলেন না, তিনি গিয়েছিলেন সেলিশবাড়ীতে। তার অর্দ্ধ-নিগ্রো স্ত্রী যখন শুনলেন একজন ইণ্ডিয়ান থাকবার জন্য স্থান খুঁজছে তখন দৌড়ে এসে বললেন “আমাদের কথা আপনার কাছে কি কেউ বলেনি?”

 অর্দ্ধ-নিগ্রো স্ত্রীলোকগণ বড়ই ভাবপ্রবণ সেজন্য বলতে বাধ্য হলাম “আমি ভেবেছিলাম আপনারা এই ঘরটাতেই থাকেন কিন্তু এখানে আসার পর এরূপ ঘটনা যে ঘটবে তা আমার ধারণাও হয়নি। ভদ্রমহিলা বললেন আর এখানে বসে লাভ নাই মাতালটা বোধহয় এখনই আসবে। সে যদি এসে আপনাকে অপরের দরজায় দেখতে পায় তবে আর আমার ইজ্জত থাকবে না। তাড়াতাড়ি করে মাতালের ঘরে গেলাম এবং আরাম করে বসলাম। অর্দ্ধ-নিগ্রো মহিলা মাতালটা যাকে সম্বোধন করছিলেন তিনি হলেন তার স্বামী।

 মাতালের ঘরে গরম জলের বন্দোবস্ত ছিল। স্নান করে কিছু খেয়ে মাতালের অতিথিশালায় শুয়ে থাকলাম। তারপর যখন ঘুম ভালে তখন পুনরায় আমেরিকার নিগ্রো রমণীর ঘরে গেলাম এবং আমার ভ্রমণের কারণ তাকে বুঝিয়ে বললাম। আমার ভ্রমণের কারণ শুনে তার চৈতন্য হল এবং নানারূপ বাক্যালাপে মনোনিবেশ করল। তার ধারণা ছিল না আমিও মনুষ্যতত্ত্ব বিজ্ঞানের কিছুটা জানি। বাইরের মাটির দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললাম এই মাটি বহুদিনের আবাদী। আপনি এখানে যদি একটি গর্ত খোঁড়েন তবে দেখবেন অন্ততঃ ত্রিশ ফুট নীচে