বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

শক্ত পাথর রয়েছে। শুধু এখানে নয় নীচের দিকের যত স্থান বেড়িয়ে আসছি প্রায় সর্বত্রই একই রকমের মাটীর অবস্থা দেখে এসেছি। ন্যাসালণ্ড একদিন সভ্যতার লীলাভূমি ছিল তাতে আর সন্দেহ নাই। তবে সেই সভ্যতার সংগে বর্তমান ভারতের কোনও সম্পর্ক আছে কি না তাই দেখবার জন্য আমি সত্বরই বুলবায়ো হতে ভিক্টোরিয়া নামক স্থানে গিয়ে জাম্বাবী ধ্বংসস্তূপ দেখব। আপনি সেই ধ্বংসস্তূপটি দেখেছেন কি?

 আমেয়িকান্ নিগ্রো মহিলা একটি দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করে বললেন “আমি সে ধ্বংসস্তূপ দেখেছি এবং ন্যাসল্যণ্ডেও দেখেছি, সর্বত্র দ্রাবিড় সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ দেখতে পেয়ে সুখী হয়েছি। বুঝতে পেরেছি এদিকে ভারতীয় সভ্যতার প্রসার হয়েছিল, তবে কখন সে সভ্যতার প্রসার হয়েছিল তা অনুমান করতে সক্ষম হইনি। আপনি সেদিকটা একটু ভাল করে দেখবেন। বড়ই দুঃখের সহিত বলছি আমি অনেক ফাইন টাইপের নিগ্রো দেখেছি, তাদের চুল ভারতীয় দ্রাবিড়দের মতই, চোখগুলি বেশ বড় বড় এবং দেখতেও মৃগাক্ষী বললেও চলে। এরা নিশ্চয়ই কোনও বিদেশী বংশের শেষ অংশ। নিগ্রোরাই শুধু নিগ্রো রয়ে গেছে, বর্তমানে তাদের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে, একেবারে শিশুর দল।” নিগ্রো রমণীর দুঃখের কথা শুনে আমারও দুঃখ হল, কারণ নিগ্রোদের মধ্যে আমরা বর্তমানে যে সভ্যতা দেখতে পাই তাতে মৌলিকত্ব মোটেই নাই, সবই বিদেশী। আমেরিকান্ নিগ্রো মহিলাকে বললাম “দুঃখ করার কিছুই নেই, সভ্যতার মৌলিকত্ব নিয়ে যারা বাহাদুরী করে তারা জানে না তাদের পূর্বপুরুষগণও একদিন নিগ্রোদের মতই অসভ্য ছিল।

 মাতাল ঘরে ফিরে এসে যখন শুনল আমি তারই ঘরে উঠেছি তখন সে আর ঘরে বসে থাকে নাই। তক্ষণি শহরের দিকে যায় এবং রাত