আটটার সময় দুই বোতল হুইস্কি এবং আরও কিছু টুকটাক জিনিস নিয়ে ফিরে আসে। সে যখন ফিরে আসল তখন আমি তারই ঘরে বসে একখানা দৈনিক সংবাদ পত্র পড়ছিলাম। এসেই বলল “আজ আমার কি সৌভাগ্য, ভারতের ভূপর্যটক আমার অতিথি। তারপরই আরও উচ্ছ্বাসের প্রস্রবণ ছুটিয়ে দিল। সেই প্রস্রবণে ভিজে গিয়ে জ্বরাক্রান্ত হতে চলছিলাম। কিন্তু মাতাল যখন শুনল আমি মদ্যপায়ী নই তখন সে হতাশ হল। সুখের বিষয় মিনিট পনের পরই সেলিসবারীর জনৈক পেটেল তার ঘরে অতিথি হবার জন্য এসেছিলেন। তিনি ছিলেন মদ্যপায়ী, তাঁকে পেয়ে মাতাল অনেকটা শান্ত হয়। রডেসিয়াতে ভারতবাসীর পক্ষে মদ খাওয়া বড়ই ব্যাঙ্গকর ব্যাপার। যার তার কাছে মদ বিক্রি হয় না, সেইজন্য অনেকেই শ্বেতকায়দের ঘুষ দিয়ে মদ কিনিয়ে আনে। এতে শ্বেতকায়দের দু’পয়সা রোজগার হয়। আজ যাকে আমরা ব্লেক মারকেই বলছি দক্ষিণ রডেসিয়াতে তাই যুদ্ধের পূর্বেই প্রচলিত ছিল।
মাতালের বেশ আয় ছিল। সেলিসবারীর তিনি কোনও সওদাগরী অফিসে ত্রিশ পাউণ্ড মাসিক বেতনে হিসাব রক্ষকের কাজ করতেন। এই আয়ের দ্বারা মাতালের সাংসারিক খরচ এবং হাত খরচও চলত। অর্দ্ধ-নিগ্রো রমণীরা খুব কম খরচে থাকতে পারে। গয়না এবং শাড়ীর বালাই তাদের নেই। তাদের একটা প্রধান খরচ আছে, সেই খরচটা হল বড় বড় বই কেনা এবং অবসর সময় তাই পড়া। মাতালের পুত্র কন্যারা খাঁটী ইউরোপীয় প্রথায় প্রতিপালিত হওয়ায় তারা স্ব স্ব ভরণপোষণের ভার নিজেরাই বহন করত এতে মাতালের খরচ আরও কমে গিয়েছিল।
প্রাচুর্যের মধ্যে আনন্দের বিকাশ হয়। খালি পেটে অথবা অর্থাভাবের