বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৬২

কোন পত্র আছে কি না। কতক্ষণ পর একজন শ্বেতকায় কর্মচারী বেড়িয়ে এলেন এবং আমার দিকে চেয়ে রইলেন, মনে হল কোন্ ভাষায় তিনি আমার সংগে কথা বলবেন, সেই ভাষাটি বোধ হয় খুঁজে পাচ্ছিলেন না, সেজন্য আমি নিজেই বললাম “ভাষার জন্য মুখ বন্ধ রাখবেন না, বলুন আপনার কি বলবার আছে?

 শ্বেতকায় কেরাণী বললেন “আপনার ছাব্বিশখানা পত্র এসেছিল। প্রত্যেকখানা প্রেরকদের কাছে ফেরৎ দেওয়া হয়েছে কারণ এখানে Post restente-এ শুধু শ্বেতকায়দের পত্র জমা রাখা হয়। হালে ক’খানা পত্র এসেছে, সেগুলিও আমরা পাঠাবার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলাম, এসে গেলেন নতুবা এগুলিও পেতেন না।”

 কখানা পত্র হাতে নিয়ে কেরাণীকে বললাম আপনারা আইনের দাস, আইন আপনারা ভংগ করতে পারবেন না, আপনাদের আইন যেদিন বে-আইনি হবে, আপনারা যেদিন আফ্রিকা হতে বহিষ্কৃত হবেন, যেমন করে হিটলার ইহুদীদের জার্মানি থেকে বিতাড়িত করেছিলেন সেদিন আমাদের মত লোক সুখী হবে, এর পূর্বে নয়। লোকটা আমার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। রডেসিয়া সরকারের অন্যায় আইনের জন্য থুথু ফেলে পেটেলের ঘরে বসে ভাবতে লাগলাম “কবে এরূপ বে-আইনি আইন পৃথিবী হতে লোপ পাবে?”

 সেলিসবারী শহরটি বড়ই সুন্দর। চারিদিকে খোলা ময়দান, মধ্যস্থলে শহরের অবস্থিতি। শহর দু’ভাগে বিভক্ত। একদিকে ইণ্ডিয়ান, ইন্দো আফ্রিকান এবং এশিয়ার অন্যান্য জাতের লোক বাস করে। অন্যদিকে শুধু ইউরোপীয়ান। শহরে কয়েক ঘর নিগ্রোরও বাস আছে। তারা ইন্দো-আফ্রিকানদের সংগেই মিলেমিশে বসবাস করে। এখানে সর্বপ্রথমই ইন্দো-আফ্রিকানদের কথা বলতে বাধ্য হলাম কারণ পেটেলের