বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৩
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

বাড়ীতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে নাই, ইন্দো-আফ্রিকানদের বাড়ীতেই চলে যেতে হয়েছিল।

 ইন্দো আফ্রিকানরা যে সকল পাড়ায় বাস করে সেই পাড়ার পথগুলি ইচ্ছা করেই যেন মেরামত করা হয় না, কিন্তু ফুটপাথ থেকে আরম্ভ করে ঘরগুলি দেখলে মনে হয় এই সেদিন বাড়ীগুলি তৈরী হয়েছে। ভেতর এবং বাইরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিক দিয়ে ইন্দো আফ্রিকানরা ইণ্ডিয়ান এবং ইউরোপীয়ানদের ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সর্বত্রই অনুভূত হয়। এরূপ হবার একমাত্র কারণ হল ইন্দো আফ্রিকানরা ভারতবাসী দ্বারা যেমন ঘৃণিত তেমনি ঘৃণিত ইউরোপীয়ানদের দ্বারাও। ঘৃণিত হলেই একটা জাতের উন্নতি বদ্ধ হয় না। জাতকে জাগাতে হলে অনুপ্রেরণার দরকার হয়। সেই অনুপ্রেরণা যোগায় সমাজ পরিত্যক্ত ভারতবাসী। অনুগ্রেরণা সংখ্যালঘিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্য হতেও আসত। সংখ্যালঘিষ্টরা সাধারণতই হিংসুটে হয় সেজন্য তারা বৃহত্তর দলের সংগে সংশ্রব পরিত্যাগ করে ইন্দো-আফ্রিকান্ দলে যোগ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার মত এবং পথ পৃথক সেজন্য আমিও বাধ্য হয়ে ইন্দোআফ্রিকানদের দলে ভিড়ে পড়লাম। এতে আমার কোনরূপ ক্ষতি হল না বরং লাভই হল। বাইরের সংবাদ সংগ্রহের পক্ষে সুবিধা হল।

 ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন আমি যেন বাইরে না যাই এবং বাইরের লোকের সংগে মেলামেশা না করি, কিন্তু এটা হল আমার স্বভাব-বিরুদ্ধ কাজ। বিদেশে গিয়ে যদি অন্যের সংগে কথা বলতে না পারলাম তবে বিদেশ ভ্রমণে কোনই লাভ নেই।

 আমার নূতন বাসস্থান মিষ্টার লসমনের বাড়ীতেই ঠিক করলাম। লসমনের নামের পূর্বে শ্রী অথবা শ্রীযুক্ত ব্যবহার হয় না। তিনি এসব ইণ্ডিয়ান গোড়ামী পছন্দ করেন না। মিষ্টার শব্দই তিনি ব্যবহার