বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন
৬৪

করেন। এবার আমি দ্বিতীয় লসমনের বাড়ীতে আসলাম। পূর্বে ন্যাসাল্যণ্ডে আর এক লস্‌মনের বাড়ীতে ছিলাম। তার স্ত্রীও অর্দ্ধ-নিগ্রো ছিলেন এবং সেলিসবারীর লসমনের স্ত্রীও অর্দ্ধ-নিগ্রো। তবে উভয়ের মধ্যে বেশ পার্থক্য ছিল! সেলিসবারীর লসমনের স্ত্রী শিক্ষিতা। অর্দ্ধনিগ্রো শিক্ষিতা মহিলার বাড়ীতে আসার পর বেশ শান্তি পেয়েছিলাম।

 হিন্দুদের অপ্রাসংগিক দর্শন আলোচনা, মুসলমানদের গোড়ামী, ইউরোপীয়ানদের দাম্ভিকতা এখানে ছিল না। এখানে ছিল নিয়ম এবং কার্যের শৃঙ্খলা। লসমন মদ খেতেন কিন্তু মাতলামী করতেন না! বেশি কথা বলতেন কিন্তু অবান্তরতা ছিল না। লসমনের ঘরে পবিত্রভাব সব সময়ই বিরাজ করত।

 সেলিসবারীতে আসার পর থেকে অনেক অর্দ্ধ-নিগ্রো পুরুষ এবং মহিলার সংগে সাক্ষাৎ হয়। তারা আমাকে শহরের অবস্থা বুঝিয়ে দেবার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। সর্বপ্রথমই একটি বিদ্যালয়ে যাই, সেখানে ভারতীয় ছাত্রেরাও পড়তে যায়। লক্ষ্য করলাম ছাত্র এবং ছাত্রীদের মধ্যে যেরূপ সংযত ভাব বিদ্যমান তেমন সংযত ভাব ইউরোপীয়ান অথবা ইণ্ডিয়ানদের মাঝে মোটেই দেখতে পাওয়া যায় না। হেডমাষ্টার মহাশয়ের সংগে সর্বপ্রথমই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়—তিনি স্পষ্ট ভাষায় বললেন “আমরা ছাত্র এবং ছাত্রীদের বুঝিয়ে দেই তাদের মধ্যে কারো কারো জন্ম ব্যভিচার হতেই হয়েছে, হয়ত ব্যাভিচারী ভাব তাদের মনেও আছে। সেই দুষ্ট ভাবকে দমন করাই হবে তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য, তারা যেন মৌলিক জাতগুলির আচার-ব্যবহার দেখে পথভ্রষ্ট না হয়। শিক্ষক এবং শিক্ষরিত্রীর মুখ থেকে যখন বয়স্ক ছাত্র এবং ছাত্রীরা প্রকাশ্যভাবেই এসব কথা শুনতে পায় তখন তাদের মুখ শুকিয়ে যায় এবং অসৎ প্রবৃত্তিগুলি আপনা হতেই দমিত হয়।