বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

একটি গুদামে গিয়ে দেখলাম্—আমার সাইকেলে মস্ত বড় একটা লেবেল আঁটা রয়েছে এবং অনেকেই একদৃষ্টে অবলোকন করছে। তাদের সাইকেল দেখার আগ্রহ এবং উৎসাহ দেখে বেশ আনন্দ হল কিন্তু অনিচ্ছায় শ্লেষ করে বললাম “আমিই সেই লোক, সাইকেল দেখে কি লাভ হবে আমাকেই দেখুন।”

 পর্তুগীজ গুদাম ইন্‌চার্জ আমার আপাদমস্তক নীরিক্ষণ করে বললেন রেলগাড়ীতে না এসে যদি জংলী পথে আসতেন তবে অনেক কিছু দেখতে পেতেন।

 অনেক কিছু দেখার প্রবৃত্তি আমার লোপ পেয়েছে। বৃটিশ পূর্ব আফ্রিকা এবং বেলজিয়াম কঙ্গোর কতক দেখে বুঝতে পেরেছিলাম অনেক কিছু দেখার মানে কি? সেজন্য গুদাম রক্ষককে বললাম—“যথেষ্ট হয়েছে আর না, এবার আফ্রিকা হতে বিদায় হতে পারলেই হল।

 গুদাম রক্ষক কি ভেবে বললেন আর কিছু না দেখেন জাম্বাবী ধ্বংস স্তূপ দেখে যাবেন এবং লক্ষ্য রাখবেন তার চারদিকে যে সকল লোক বসবাস করে তাদের আকৃতি এবং প্রকৃতি কিরূপ।

 ধন্যবাদ মশায়, অন্য সময় কথা বলব—এখন আমাকে যেতে দিন। কোথায় থাকব এখনও তার বন্দোবস্ত হয় নাই। থাকবার বন্দোবস্ত করার পর মাথা ঠিক হলে এসব কথা চিন্তা করতে পারব।

 গুদাম রক্ষক মাদ্রাজী ভদ্রলোলের দিকে চাওয়া মাত্র তিনি বললেন পর্য্যটক মহাশয়কে নেবার জন্যই এসেছি। সাইকেলটা দিয়ে দিন। তামিল ভদ্রলোকের কথা শুনে পূর্বে সন্দেহ হয়েছিল, এবার ভালকরেই বুঝলাম—উনি একজন সরকারী লোক নতুবা আমার প্রতি এত দয়া হবে কেন? মনের কথা মনেই থাকল, কাউণ্টারের দিকে এগিয়ে গিয়ে