বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

অর্দ্ধ-নিগ্রো বললে “উভয় স্থানই দেখা আপনার পক্ষে সমূহ কর্তব্য। কিন্তু এ-সকল স্থানে সাইকেলে করে যদি যেতে চান তবে অন্তত চার মাস সময় লাগবে। পথে বন্যজীব ছেয়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় রেল গাড়ীতে ভ্রমণ করাই কর্তব্য কিন্তু ভুলবশত যদি আপনার পরিকল্পনা কোন ইণ্ডিয়ানের কাছে বলে ফেলেন তবেই হবে মুস্কিল। তারাই আপনাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করে। অর্দ্ধ-নিগ্রোটি দুঃখ করে বললে ইণ্ডিয়ানরা এদেশে অনেক সুযোগ হারিয়েছে। তারা বাস্তববাদী নয়! এখান থেকে সাইকেলে করে বুলবায়ো যান এবং সেখানকার দ্রষ্টব্য স্থানগুলি দেখে সর্বপ্রথম যাবেন ভিক্টোরিয়া ফলস্। ভিক্টোরিয়া ফলস্ দেখে পুনরায় বুলবায়োতে ফিরে এসে কয়েকদিন বিশ্রাম করবেন, তারপর যাবেন জাম্বাবী ধ্বংসস্তূপ দেখতে। এসব দেখা হয়ে গেলে পুনরায় বুলবায়োতে ফিরে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে রওয়ানা হবেন। অর্দ্ধনিগ্রোদের প্রস্তাব আমার মনোমত হওয়ায় সত্বরই বুলবারোর দিকে রওয়ানা হতে মনস্থ করি।

 সেলিসবারীতে ছোট্ট একটি মিউজিয়ম আছে। সেখানে সকলকেই অবাধে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। দেখলাম ভূতত্ব সম্বন্ধেই নানা রকমের পাথর এবং কয়েকটা দুষ্পাপ্য বন্যপশুর অস্থি কঙ্কাল পড়ে আছে। যারা মনুষ্যতত্ব বিজ্ঞান সম্বন্ধে গবেষণা করতে চায় তাদের পক্ষে লণ্ডন মিউজিয়মই যথেষ্ট। সেলিসবারীর ঠেলা ধাক্কা খেয়ে সেই ছোট্ট মিউজিয়মের দিকে ধেয়ে যাওয়া কোনমতেই কর্তব্য নয়।

 সেলিসবারীর প্রত্যেকটি ইউরোপীয়ান আমাদের দেশের নবাব, সুলতান, রাজা, মহারাজা বিশেষ। এদের নাক-সিটকিয়ে পথে চলতে দেখে বেশ রাগ হয়। যেখানে ইউরোপীয়ান রাজমিস্ত্রি দৈনিক পঞ্চাশ শিলিং করে মজুরী পায় সেখানে তারা আমাদের দেশের নবাব, সুলতান,