মহারাজাদের মত চলবে না কেন? স্বর্গের স্বর্গত্ব নরকের অস্তিত্বের উপরেই নির্ভর করে।
সেলিসবারীর কাছেই নিগ্রো গ্রাম রয়েছে। সেখানে উই পোকার ঢিবির মত কতকগুলি মেটে ঘরে নিগ্রোরা বাস করে। বিজলী বাতি অথবা জলের কল সেখানে নাই। আছে সর্বত্র দুর্গন্ধ। দুর্গন্ধ না হয়ে যায় কোথায়? যেখানে ভাল ড্রেন নাই, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বালাই নাই সেখানে দুর্গন্ধ হবেই। নিগ্রোরা পোল-ট্যাক্স নামে যে ট্যাক্স দেয় যদিও সেই অর্থ নিগ্রোদের শিক্ষার্থে-ই খরচ হয় তবুও বলতে বাধ্য, নিগ্রো শিক্ষা বিভাগের শ্বেতকায় রাজকর্মচারীরাই ট্যাক্সের নিরানব্বই ভাগ খেয়ে ফেলে। এরপর যা থাকে তাতে নিগ্রোদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের উচ্চ ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয় না। নিরক্ষরতা, কুশিক্ষা, দুর্গন্ধ, অভাবের তাড়না, স্বর্গরাজ্য সেলিসবারীর আধ মাইলের মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায়, সেজন্যই বোধহয় স্বর্গের স্বর্গত্ব উপলব্ধি করা যায় সত্বর এবং বেশ ভাল করে।
সেলিসবারীর ইউরোপীয়ানদের সংগে পরিচিত হবার জন্য একদিন মাত্র ভিক্ষা করতে বের হই। বড় বড় বাড়ীর ভেতর প্রবেশ করা আমার মত পথিকের পক্ষে বড়ই কষ্টকর কাজ তা আমি জানতাম, তবুও ইচ্ছা করেই অপমানিত হবার জন্য কয়েকজন বড়লোকের দ্বারে ভিক্ষাপত্র হাতে করে দাঁড়াই। অনেক বড়লোকই আমার ভিক্ষাপত্র আগ্রহের সহিত পড়েন এবং আমার সংগে কথা বলার জন্য আগ্রহান্বিত হয়েও কোথায় নিয়ে বসাবেন সে চিন্তা করেই প্রচুর অর্থ দিয়ে বিদায় করতে রাধ্য হন। যেস্থানে কথা বলতে প্রয়াসী হয়ে প্রচুর অর্থ পাওয়া যায় সেখানে ভিক্ষা ভিক্ষাবৃত্তিতে পরিণত হয় ভেবে বড়লোকদের বাড়ীতে ভিক্ষা করা বন্ধ করে দিয়ে, ছোট ছোট দোকানে ভিক্ষা করতে যাই,