সেখানে ত তারা আমাকে অপ্রত্যাশিত ভাবে দান করেই সুখী হয়েছে। কিন্তু ঘরে বসিয়ে দুটি কথা শুনার সাহস করে নাই কি জানি যদি জাতিচ্যুত হয়? জাতিচ্যুত হওয়ার অভিসাপ মর্মে মর্মে অনুভব করে যখন লসমনের ঘরে ফিরলাম তখন আপন সমাজের কথা আপনা হতেই মনে পড়ল। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকলাম। কোথাও যেতে আর ইচ্ছা হল না। দুপুর বেলা যখন লসমনের স্ত্রী খেতে ডাকলেন তখন তিনি আমার শুষ্ক মুখ দেখেই বললেন নিশ্চয়ই আপনাকে কেহ অপমান করেছে। তাঁকে আমার অভিজ্ঞতার কথা বলার পর তিনি বললেন “আপনদের দেশের লোক কিন্তু এ বিষয় নিয়ে একটুও মাথা ঘামায় না। আমরা যদিও এরূপ নিকৃষ্ট আবহাওয়ার মধ্যে বাস করি তবুও যখনই আমাদের আত্মসম্মানে ঘা লাগে তখনই আমরা ইউরোপীয়ানদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি। ভারতবাসীরা ইউরোপীয়ানদের দ্বারা অপমানিত এবং ঘৃণিত হবার পরও আমাদের সংগে মেলামেশা করতে ভালবাসে না। এটা কি পরিতাপের বিষয় নয়? যদি ভারতবাসী আমাদের সংগে যোগ দেয় তবে বোধহয় আমরা ইউরোপীয়ানদের কোণঠাসা করতে পারি।
পরের দিন মস্তবড় একজন মুসলমান ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে ইউরোপীয়ানদের ব্যবহারের কথা বললাম এবং প্রতিকারের জন্য ইন্দো আফ্রিকানদের সহযোগীতা করতে অনুরোধ করায় তিনি আমার প্রস্তাব শুনে একেবারে তেড়েবেড়ে উঠে বললেন “যাদের শরীরে নানারূপ রক্তের সংমিশ্রণ তাদের সংগে হাত মেলানো কোনমতেই চলে না। বৃটিশ ত ভাল জাত। তাদের পেছনে থাকাই ভাল। নিগ্রো অথবা অর্দ্ধ-নিগ্রোর সংস্পর্শে আসা কোন মতেই ভাল হবে না।” এ ধরণের কথা শুধু তার কাছ থেকেই শুনি নাই, হিন্দুদের কাছ থেকেও শুনেছি। একজন