ইত্যবসরে পাদরী আমাকে বললেন “দেখেছ আমাদের বোর্ডিং হাউস, কেমন সুন্দর, ভারতে এমন হোষ্টেল কটা আছে?”
লণ্ডনেও এমন সুন্দর বোর্ডিং নাই, আমি লণ্ডনে অনেকদিন ছিলাম কিনা তাই বলছি।”
পাদরীর মুখ শুকিয়ে এল। পাদরী যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সংগে কথা বলছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত “প্লিজ” শব্দ একবারও ব্যবহার করেন নাই। আমি ঠিক তেমনি তার সংগে কোন কথার সংগে অথবা প্রথমে ভদ্রতাসূচক ‘প্লিজ’ কথা ব্যবহার করি নাই। অবশেষে যখন পাদৱী বুঝলেন আমি অন্য ধরণের লোক, স্থানীয় ভারতবাসী নই, তখন তাঁর ভাষার এবং মনের পরিবর্তন হল। আমাকে তৎক্ষণাৎ তাঁদের ঘরে নিয়ে বসতে দিলেন এবং ভদ্রভাবে কথা বলতে লাগলেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই বুঝিয়ে দিলেন ভারতবর্ষে বৃটিশরা উচ্চশিক্ষা প্রচার করে যে অন্যায় করেছে, ভারতবাসীও যদি এদেশে নিগ্রোদের সংগে মেলামেশা করে তবে তাদেরও এদেশে সেই অবস্থা হবে। আমি প্রতিবাদ করে বললাম “এসব বাজে কথা।”
অতি অল্প কথা অথচ এই অল্প কথার পেছনে বৃহত্তম চিন্তাধারা ছিল। বৃটিশ পাদরী যেমন আমার কথা বুঝতে সমর্থ হয়েছিলেন আমিও তেমনি তাঁর কথা বুঝতে সমর্থ হয়েছিলাম। তারপর উভয়েই নির্বাক হয়ে অনেকক্ষণ থাকার পর আমি চলে আসলাম! বাই-সাইকেল নিয়ে গেট পর্যন্ত আসার পরই দেখলাম দুটি পূর্বপরিচিত ছেলে আমার সংগে বের হয়ে এল। কতক্ষণ যাবার পর জিজ্ঞাসা করলাম “তোমরাও বের হয়ে এলে নাকি?”
হাঁ বানা, আর স্কুলে যাব না ঠিক করেছি। কতকদিন আপনার সংগে থেকে যা বুঝতে পারি তাই মূলধন করে কাজে লাগাব। বুঝতেই পারছ