বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

রসিদে নিজের নামটা লিখে দিয়ে সাইকেল খানা নিতে যাচ্ছি তখন গুদাম রক্ষক বললেন “বেঁচে থাকুন মশায়, আপনাদের জীবন স্বার্থক। আমরা এখানে বসেই বৎসরের পর বৎসর কাটাচ্ছি এবং নানা দেশের ছবি ও গল্প পড়েই অতৃপ্ত মনকে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করছি, পৃথিবী দেখার সৌভাগ্য আমাদের কখনও হবেনা, আপনাদের মত লোককে দেখেই আমরা সুখী। গুদাম রক্ষকের কথার উত্তরে কয়েকটি মুখ রোচক কথা বলে বিদায় নিলাম।

 মান্দ্রাজী ভদ্রলোকের নাম ও লসমন, পূর্বে ন্যাসাল্যাণ্ডে অন্য আর একজন লস্‌মনের কথা বলা হয়েছে। ষ্টেশন হতে বের হয়ে লসমন আমাকে তাঁর ঘরে যাবার পথ বলে দিলেন, পরিশেষে বললেন তিনি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ঘরে পৌঁছবেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পারলাম তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং সে অনুযায়ী আমার কর্মপদ্ধতিও ঠিক করে ফেললাম। লস্‌মন শ্রেণীর লোককে আমার পক্ষে চেনা অতি সহজ হয়েছিল, একদিকে দেশপ্রেম অন্যদিকে সরকারী আদেশের তাবেদারী যারা করে তারা অনেক সময়ই ভাল হয়, কিন্তু এই শ্রেণীর লোকের যখনই অর্থাভাব হয় তখনই তারা তাদের নিকটস্থ আত্মীয়কে পুলিশের হাতে সমর্পন করে—সরকারের কাছ থেকে দুপয়সা অর্জন করতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করে না। গুদাম রক্ষককে কিন্তু সেরূপ বলে মনে হয় নাই। একেবারে অন্যধরনের লোক তিনি প্রগতিশীল। ছাইয়ের নীচে সোণা পড়ে থাকলে প্রথমত ছাই দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু একটু নাড়লেই সোণা বেরিয়ে আসে। গুদাম রক্ষকের সংগে পরে দেখা হয়েছিল এবং একটু নেড়েচেড়েই বুঝতে পেরেছিলাম তিনি খাঁটী সোনা।

 ষ্টেশন হতে রওয়ানা হয়ে লস্‌মনের বাড়ীর দিকে চলার পথে ধান