নিগ্রো স্ত্রীলোকগণ সাধারণত একগাছা সরু রশি তাদের কোমরে বাঁধে এবং সেই রশির সংগে একটুকরা কাপড় অথবা কোন জন্তুর চামড়া আটকিয়ে রাখে। বাড়ীতে ভিন্ন পুরুষ আসলে পরিধেয় বস্ত্র পরিবর্তন করে। জব্বোর স্ত্রীও আমাদের দেখতে পেয়ে তার পরিধেয় পরিবর্তন করল এবং বসবার জন্য ঘরটা পরিষ্কার করে আমার সাইকেলখানা নিজেই ঘরে তুলে রাখল। পরিষ্কার স্থানে একখানা কম্বল বিছিয়ে দিয়ে আমাদের বসতে বলল। ঘরে বাতি ছিল না। আমার কাছে মোমবাতি মজুত থাকত। মজুত মোমবাতি হতে একটি মোমবাতি খুলে দিলাম। তাই প্রজ্জ্বলিত করে ঘরের অন্ধকার দূর করা হল। জব্বোর স্ত্রী যখন অন্যান্য গৃহকাজে ব্যস্ত ছিল তখন আমরা নিকটস্থ ছোট্ট নদীতে স্নান করে ফিরে এলাম এবং দেখলাম চা আম্লেট ও দুখানা করে রুটি বৃক্ষপত্রে পরিবেশিত হয়েছে। আরাম করে তাই খেলাম। আমাদের খাওয়া শেষ হয়ে গেলে জব্বোর স্ত্রীও খেল। খবর নিয়ে জানলাম মেয়েটীর মা অন্যত্র গিয়েছে সেও নাকি নিগ্রো জাতির উন্নতির জন্য চেষ্টা করছে। জব্বো তার ভাবী শাশুরীর প্রশংসা করে বলল বিয়ের পণ স্বরূপ মেয়ের মাকে আটটি গরু দান প্রথা প্রচলিত আছে, সেই প্রথা জব্বোর ভাবী শাশুরী লঙ্ঘন করবেন। এখন বিয়ে হলেই হল। খাবারের পর নানা রূপ গল্প বলে মুখে যখন ব্যথা হল তখন জব্বোকে মশারী খাটিয়ে দিতে বললাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি জব্বো এবং তার স্ত্রী মরার মত শুয়ে আছে। তাদের পাশেই মেপ্পা। মেপ্পাকে ডাকামাত্র সে উঠে বসল এবং বলল “বানা, আজ এখানে থেকে যাও, অন্যত্র যেয়ে কাজ নাই, আমি এখনই অন্য গ্রামে যাচ্ছি, সেখান থেকে কতকগুলি শিক্ষিত লোক সংগে করে নিয়ে আসব। তারা তোমার কথা শুনবে। জব্বোও ঘরে থাকবে না, সেও তার ভাবী শাশুরীকে নিয়ে আসতে যাবে। যারা
পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৮১
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৭
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন