বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

“বুড়াটার বেশ টাকা আছে, সেইজন্যই নিয়েছি, যখন বুড়ার টাকা শেষ হয়ে যাবে যখন তাড়িয়ে দেব।” এসব কথা বলেই আমার দিকে চেয়ে কথাগুলি অনুবাদ করে শুনাচ্ছিল। নিগ্রোদের মধ্যে ঠাট্টা তামাসা করার বেশ প্রবৃত্তি আছে দেঘে সুখী হয়েছিলাম।

 বেলা বারোটার সময় জব্বোর শাশুরী এসেই দরজায় বসে হাঁপাতে লাগল এবং বির্‌বির্ করে কতকগুলি কথা বলল। জব্বো তার ভাবী শাশুরীর কথাগুলি বুঝিয়ে দিল। কতক্ষণ পরই মেপ্পা সাত-আটজন যুবককে সংগে নিয়ে এল। যুবকদের মধ্যে কেউ ফ্রেঞ্চ, কেউ ডাচ, কেহ বা ইংলিস ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারত। তাদের সংগে কথা বলে বুঝতে পারলাম ভবিষ্যতে এই যুবকগণ আফ্রিকার নিগ্রো জাতকে বৈদেশিক শৃঙ্খল হতে মুক্ত করতে সক্ষম হবে। এই যুবকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হয়েও সাধারণ লোকের পোষাক পরেই সন্তুষ্ট। মামুলী খাদ্য খেয়েই তৃপ্ত, সারাদিন পায়ে হেটে গ্রাম হতে গ্রামান্তরে ভ্রমণ করেও অপরিশ্রান্ত। এই ধরণের লোক যদি আফ্রিকাকে বৈদেশিক শাসন হতে মুক্ত করতে না পারে তবে আর কে করতে পারবে?

 এই ধরণের শিক্ষিত নিগ্রো যুবকেরা ইণ্ডিয়ান এবং ইউরোপীয়ান সবাইকে সমানভাবে শত্রু মনে করে। ইণ্ডিয়ানদের সংগে তারা যাতে শত্রুতা না করে সেজন্য কিছু বলতে ইচ্ছা থাকা সত্বেও জিহ্বা আড়ষ্ট হয়ে এল। কি কারণ দেখিয়ে ইণ্ডিয়ানদের মিত্র বলে গণ্য করতে বলব? কোন কারণ খুঁজে পেলাম না সেজন্য বিষয়টা পরিত্যাগ করাই ভাল হবে ভাবলাম কিন্তু কতক্ষণ পরেই দেশের কথা মনে হল এবং ইচ্ছা হল এ সম্বন্ধে কিছু বলি, অবশেষে পামার নামে একজন ফরাসী ভাষায় দক্ষ নিগ্রো ভদ্রলোককে বললাম “আপনারা ইণ্ডিয়ানদের শত্রু মনে করেন কেন?”

 ভাল কথাই উত্থাপন করেছেন, আপনিও একজন ইণ্ডিয়ান,