ভারতীয় ব্যবসায়ীর মনোভাব যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য আমি অন্য বিষয়ের অবতাড়না করলাম।
গুয়েলো হতে বুলোবায়ো একশত আট মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এইটুকু পথ তাড়াতাড়ি যাওয়া পছন্দ করি নাই। তার দুটি কারণ ছিল, প্রথম কারণ হল পথের সৌন্দর্য, দ্বিতীর কারণ হল মেপ্পা আমার জন্য পথেও দুধের বন্দোবস্ত করে দিত। কাঁচা দুধ খেয়ে শরীরে ক্রমশঃই শক্তি বেড়ে চলছিল এবং সাইকেলে চলতে আরাম লাগত। এক দিন পথের পাশেই মেপ্পা একটা গাইকে ধরে আমার ওয়াটার বোতল ভর্ত্তি করে দুধ আনল। আমি সবটা খেতে পারলাম না বলে সে দুঃখ প্রকাশ করল। আমারই সামনে এরা প্রত্যেকে দুবার করে ওয়াটার বোতল ভর্ত্তি করে দুধ খেয়েছিল।
বোলবায়োর পথে কোনও বিশিষ্ট স্থানে আমরা রাত কাটাই নাই। নিগ্রো গ্রামেই আমরা থাকতাম। জব্বো গ্রামবাসীকে ডেকে একত্রিত করত। লেকচার দিত আর আমি তাই শুনতাম। বুঝতে চেষ্টা করতাম গ্রামবাসী জব্বোর কথা বুঝতে পারছে কিনা? জব্বো কখনও চিৎকার করে কথা বলত না। সে স্পষ্ট করে বিষয়-বস্তু সাজিয়ে গল্পের আকারে বলত। সভাতে থাকতে থাকতেই অনেকে নূতন কাপড় পরে পুনরায় সভাতে আসত এবং জব্বোকে সুখী করত। জব্বো নিগ্রোদের ভাল ঘরে থাকতে, উত্তম খাবার খেতে, ইউরোপীয় ধরণে থাকতে এবং পাক করতে উপদেশ দিত। অনেকে বলত এত টাকা পাবে কোথা হতে? দরকার বেড়ে গেলে টাকা আপনা থেকেই আসবে। নিজের দরকার মিটাতে গিয়ে ডাকাতি চুরি এসব করতেও বিমুখ হয়ো না। জব্বোর জব্বরী উপদেশ শুনে আমি শুধু দুঃখিত হতাম না, শরীরটাও যেন সংগে সংগে কেঁপে উঠত। এসব কথা আমার ধাতে সইত না।