বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৫
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

দেখেছিল। সেই লোকটি বলছিল আমাকে নাকি একটা ইউরোপীয়ান অপমান সূচক কথা বলেছে।

 হাঁ, এটা ত এখন আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আফ্রিকা ছেড়ে যাবার পর ভাবতে পারব এদেশে কি দেখেছি, এখন আমার মন অপমানের ধার ধারে না, কোন মতে আফ্রিকা ভ্রমণ শেষ করতে পারলেই হল।

 আপনার পক্ষে ইউরোপীয়ান অধ্যুসিত রেলষ্টেশনে যাওয়াই অন্যায় হয়েছে। আমরা সেদিকে মোটেই যাই না। ভবিষ্যতে আপনি ইউরোপীয়ানদের সংস্পর্শে যাবেন না।

 বাঙ্কনীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম এখন এসব কথা রাখ একটু বিশ্রাম করে নেই তারপর এই বিষয় নিয়েই কথা বলতে পারব। বাঙ্কনীর ঘর হতে বিদায় নিয়ে সহরের দিকে রওয়ানা হলাম। অনেকক্ষণ যাবার পর নির্ধারিত গুজরাতী ভদ্রলোকের বাড়িতে পৌঁছলাম। নিচে দুটি ছেলে বসে ছিল। তাদের কাছে আমার উদ্দেশ্য বললাম। তারা আমাকে তাদের মনিবের কাছে নিয়ে গেল এবং থাকবার ব্যবস্থা করে দিল। আমি তখনও পরিশ্রান্ত ছিলাম। যুবকগণ আমাকে নানারূপ প্রশ্ন করতে ছিল। পরিশ্রান্ত হয়ে কোন কথা বলতে ইচ্ছা করে না সেজন্য বল্‌লাম “আমাকে বকিও না।” যুবকগণ বুঝল আমি পরিশ্রান্ত, বকিয়ে লাভ হবে না। ক্রমাগত কয়েকদিন ভ্রমণ করার জন্য বিছানায় শুয়ামাত্র ঘুম এল। সুখের বিষয় যুবক দ্বয় ঘুমের সময় কোন ব্যাঘাত জন্মায় নাই। দুদিন ক্রমাগত বিশ্রাম করার পর কিছুটা শান্তি পেলাম। তৃতীয় দিন সকাল বেলা সাইকেলখানা ঘসে মেজে পরিষ্কার করার পর পায়ে হেটে শহর দেখতে বের হলাম। কোন রূপ উদ্দেশ্য না থাকলে সাইকেলে ভ্রমণকারী পায়ে হেটে ভ্রমণ করতে রাজি হয় না।