মাত্র তারা খেলা ছেড়ে কাছে আসল এবং পরিচয় চাইল। আমার পরিচয় পেয়ে তারা তাদের মাষ্টারের কাছে নিয়ে গেল। মাষ্টার মহাশয় আমাকে দেখে এমনি একটা ভাব দেখালেন যাতে মনে হল তিনি আমাকে ভাল চোখে দেখছেন না। জয়য়াম সীতারাম বার বার উচ্চারণ করে বললেন “অন্য সময় আসবেন।” আমি আর অন্য সময় যাই নাই, ছাত্রদের কাছেও অভিজ্ঞতার কথা বলা হয় নাই। এই ভদ্রলোকই ধর্ম্ম সম্বন্ধে লেক্চার দিবার জন্য অনেক লোককে ডেকে আনতেন কিন্তু পর্য্যটন কাহিনী শোনার কোনও আগ্রহ ছিল না।
বুলোবায়োর ভারতীয় কংগ্রেস দুটি ভাগে বিভক্ত। একদল আর একদলের লোকের সংগে কথা বলতেও নারাজ। অবস্থা প্রণিধান করে বুঝতে পারলাম এখানে নেতৃত্ব নিয়েই বিবাদ। কে নেতৃত্ব করবে? যারা ধর্ম্ম পরায়ণ অর্থাৎ ধনী ব্যবসায়ী তারা পলিটিক্স বুঝতে রাজি নয়। যে অবস্থায় আছে সে অবস্থাতেই থাকতে রাজি। এর মানে হ’ল নিগ্রো ঠকানো এবং অবসর পেলে ঈশ্বরের নাম কীর্তন করা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহাশয়ও ধনীদের মতই পোষণ করতেন। কিন্তু এদের তখনও ধারনা হচ্ছিল না নিগ্রোরা এ অবস্থায় থাকবে না। নিগ্রোরাও বিদ্রোহ করতে সক্ষম হবে। নিগ্রোরা যাতে মাথা না তুলতে পারে সেজন্য ভারতীয় ধনী এবং ধর্মপ্রাণেরা ইউরোপীয়াণদের নানারূপ উপদেশ এবং সাহায্য করে সুখী হত দেখে হাসতাম এবং যে সকল যুবক আমার সঙ্গে দেখা করতে আসত তাদের বলতাম তোমাদের ভবিষ্যত অন্ধকারাচ্ছন্ন, ভারতেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। ভেবোনা নিগ্রোরা চিরকাল অশিক্ষিত থাকবে এবং তোমরা ওদের যথাসর্বস্ব অপহরণ করবে।
সন্ধ্যা সমাগত। খাওয়া শেষ করেই শহরের বাইরের দিকে পথ ধরে অগ্রসর হলাম। পথে লোক জন নাই। মাঝে মাঝে দু একখানা মোটর