কার প্রবল বেগে শহরের দিকে আসছিল। এই মোটরকারগুলিকে বেশ সমীহ করে পথ চলতে হচ্ছিল। এরা যদি ইচ্ছা করেও আমাকে মোটর চাপা দিয়ে যেত তবে কারো কিছু বলার ছিল না। রডেসিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় স্থানেই যখন কোনও নিগ্রোকে রাজনৈতিক কাজে বেশ অগ্রসর হতে দেখতে পাওয়া যায় তখন তাকে পথের মাঝে মোটর চাপা দেবার বন্দোবস্ত করা হয়। মেপ্পা আমাকে সে কথাটি বলেছিল। মেপ্পা শ্রেণীর লোক সেজন্য কখনও প্রকাশ্য স্থানে ভদ্র পোষাকে যেত না। মেপ্পার একদিনের পোষাক দেখে আশ্চর্য্যান্বিত হয়েছিলাম। তার পরণে ছিল একটি পরিত্যক্ত হাফ্পেণ্ট, হাতে ছিল দুটা মোটা বেতের বালা, পায়ে ছিল বেতের বুট। তাকে দেখলেই মনে হত এই মাত্র জংগল থেকে সভ্য জগতে চলে এসেছে।
কতকক্ষণ চলার পরই মেপ্পার সঙ্গে দেখা হল। সে আমার হাত ধরে বড় রাস্তা হতে ছোট পথ ধরে চলল। রাত্রে এরূপ পথ চলার অভ্যাস আমার ছিল না, তথাপি চলতে বাধ্য হলাম। কতক্ষণ যাবার পর দেখলাম গণ্ডা কতক যুবক আঁধারে বসে আছে, তাদের কাছে আমিও বসলাম, তারা কেউ উঠে সম্মানও দেখাল না। মেপ্পা তাদের ভাষায় বলল “এই যে দেখছ ভারতবাসী, তিনি পৃথিবী ভ্রমণ করছেন। তার সংগেই আমি আর জব্বো অনেকদিন ছিলাম। তোমরা তাকে দেখতে চেয়েছিলে, তিনি এখন তোমাদেরই মাঝে বসে আছেন। লোকগুলি আরও কাছে এসে অনেকক্ষণ ধরে কি বলল তার একটি কথাও বুঝতে পারলাম না। মেপ্পাকে বললাম “তোমার কাছেই আমার বক্তব্য বলা হয়েছে, এখন আমি যাই, বুলোবায়তে আমার বেশি দিন থাকার ইচ্ছা নাই। সত্বরই এখান থেকে চলে যাব কিন্তু আবার ফিরে আসব। মেপ্পার বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শহরের দিকে চলার সময় মেপ্পা