বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৯৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৯
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

বললে “বানা, রাত্রে শহরে যাবার আমাদের কোন অধিকার নাই, সে কথা নিশ্চয়ই অবগত আছ। অতএব এখান থেকেই বিদায় নিচ্ছি, মেপ্পার দুঃখ দেখে মনে বেশ আঘাত লাগল।

 ইণ্ডিয়াণরা রাত্রে কোথাও যায় না। রাত নয় দশটার সময় তারা শুয়ে থাকে। আমাকে বিলম্বে আসতে দেখে পেটেলের বাটিস্থ সকলেই চিন্তিত হয়েছিল, তারা ভেবেছিল হয়ত আমি পথ হারিয়েছি। ফিরে আসার পর সকলেই জিজ্ঞাসা করল কোথায় গিয়েছিলাম। তাদের কাছে সত্য কথাই বললাম। সত্য কথা শুনে তারা স্তম্ভিত হল। বুলোবায়োর ভারতবাসী নিগ্রোদের সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত কথা ছাড়া অন্য কোন কথা বলে না। এদের এই ধরণের খাপ ছাড়া আচার বাবহারে দুঃখিত হওয়া ব্যতিরেকে আর কিছুই করার মত ছিল না। ভিক্টোরিয়া ফলস্ দেখতে যাবার পূর্বে একজন যুবক রডেসিয়াবাসী ইণ্ডিয়ান শিক্ষকের সংগে দেখা হয়। তাঁর পূর্বপুরুষ বিহারের অধিবাসী ছিলেন। তিনি তথা কথিত ছোট জাতের অন্তর্গত। তাঁর কথা কেউ শুনতে রাজি নয়। তিনি মর্মে মর্মে অনুভব করেছিলেন, দক্ষিণ রডেসিয়াতে নিগ্রোদের উন্ননি অতি অশ্চিয়, সেজন্য তিনি নিগ্রোদের সংগেই মেলামিশা করতেন। ইণ্ডিয়ানদের পক্ষে শিক্ষক মহাশয়ের আচার ব্যবহার খারাপ মনে হওয়ায় তাঁকে সমাজ চ্যুত করা হয়। উপায়ন্তর না দেখে তিনি নিগ্রোদের সংগে সমাজ স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন! এই শিক্ষক মহাশয়ের ভবিষ্যৎ বংশধরগণ কি ভারতদ্রোহী হবে না? নিশ্চয়ই হবে এবং সেই একটি পরিবারের লোক এক লক্ষ এন্‌টি ইণ্ডিয়ান্ ভারবাসীদের যা ক্ষতি করবে তার চেয়ে শেী ক্ষতি করবে।