একটি গ্রাম আছে। গ্রামটি রেলওয়ে ষ্টেশন কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সেই গ্রামে অনেক ভারতবাসী বাস করে। চার মাইল দূর হতে প্রত্যহ যদি প্রপাত দেখতে যাই তবে আমার বাসনা পূরণ হতে পারে অন্যথায় ভিক্টোরিয়া প্রপাত দেখা আকাশ কুসুম কল্পনায় পরিণত হবার সম্ভাবনা ছিল।
লিভিংষ্টোনিয়াতে থাকা ঠিক করে সেখানকার ভারতীয় কংগ্রেসী সেক্রেটারীর কাছে তার যোগে আমার পরিচয় দিয়ে থাকবার স্থানের বন্দোবস্ত করতে বললাম। সেক্রেটারী মহাশয় থাকবার ব্যবস্থা করবেন লিখলেন। তাঁ’র তার পেয়ে সুখী হলাম এবং বুলোবায়ো হতে রেল গাড়ীতে যাবার জন্য টিকিট কিনতে ষ্টেশনে গেলাম। ষ্টেশনের টিকেট বিক্রেতা টিকিটটা আমার দিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল “এই নাও টিকিট, কাল সকাল সাতটায় এসো। টিকিটটা হাতে নিয়ে পেটেলের বাড়ীতে এসে মাথা নত করে বসে থাকলাম। ভাবতেছিলাম এত অপমান কি করে সহ্য করেছি।
পরের দিন পুনরায় টিকিটটা হাতে করে ষ্টেশনে গেলাম। গাড়ী প্রস্তুত ছিল। দ্বিতীয় শ্রেণীর রিজার্ভ কম্পার্টমেণ্টে বসলাম। এই কম্পার্টমেণ্টে শুধু এশিয়াটিকরাই বসতে পারে। এশিয়াটিক শব্দের ভিন্ন মানে রয়েছে। যারা এশিয়ায় জন্মেছে তারা সকলেই এশিয়াটিক নয়। অনেক ইউরোপীয়াণের ও এশিয়াতে জন্ম হয়েছে এবং তারা বসবাসও করছে, তা বলে তারা এশিয়াটিক নয়, তারা ইউরোপীয়াণ। এশিয়াটিক শব্দটা অনেকটা অসুর, দৈত্য, রাক্ষস ধরণের। ঘৃণ্য লোককে কিছু বলা চাইত, এশিয়াটিক শব্দটা হল সেই ধরণের।
স্টলে সংবাদপত্র বিক্রি হচ্ছিল। একখানা সংবাদপত্র স্টল হতে টেনে নিলাম। সবাই নিচ্ছিল, আমি নিব না কেন? এতে স্টলের মালিকের