রাগ হয়। সে বলল “আমাকে বললেই উঠিয়ে দিতে পারতাম।” লোকটাকে কিছু না বলে দুপেনী ফেলে দিয়ে গাড়ীতে চাপলাম। ঠিক সেই সময় মনে হয়েছিল দেশের কথা। আমাদের দেশেও তথা কথিত এক শ্রেণীর লোক আছে যাদের হীন জ্ঞান ত করা হয়ই উপরন্তু এদেরে মানুষ বলে স্বীকারও করা হয় না। এখানকার ইউরোপীয়ানরাও আমাদের প্রতি সেই অবস্থা করেছে। তারাও এশিয়াটিক অর্থাৎ এশিয়াবাসীদের মানুষ বলে স্বীকার করতে চায় না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “যাদের আজ অপমান করছ, তারা একদিন তোমাদেরই অপমান করবে।” আমার মনে হয় মুষ্টিমেয় ইউরোপীয়ানের বর্বরোচিত শাসন ভবিষ্যতে ফুঁৎকারে উড়ে যাবে।
গাড়ী ছেড়ে দেবার পরই বয় নানা রকমের খাদ্য নিয়ে এল। কিছুই ফেরৎ দিলাম না। প্লেটের পর প্লেট উজার করে দিয়ে বয়কে বললাম তুমি বাসনগুলি নিয়ে যাও আমি এখম ঘুমাব। “বয় বললে” এখন ঘুমাবেন না, রেল পথের দুদিকে নানারূপ দৃশ্য দেখতে পাবেন, বসে দেখুন। এদেশেত আর আসবেন না। এই বোধ হয় প্রথম আর এই বোধহয় শেষ।
তাই মনে হচ্ছে বয়।
বয় ফিরে এল, সে শুধু এশিয়াটিকদের আদেশ পালন করে। কথা প্রসংগে সে বলল “আজ বড়ই খারাপ দিন কারণ আজ আপনি এখানে রয়েছেন!”
বয়কে জিজ্ঞাসা করলাম “বুলোবায়োর ইণ্ডিয়ানরা কি গাড়ীতে চড়ে না।”
খুব কম, রেলগাড়ীতে তারা খুব কম ভ্রমণ করে।
তাদের প্রত্যেকেরই মোটর গাড়ী রয়েছে। তারপরই বয়কে জিজ্ঞাসা