করলাম “আমার উপস্থিতিতে আজ কেন খারাপ দিন হল?” বয় আমার কথার জবাব দিল না দেখে মুখ ফিরিয়ে পথের দু’পাশের দৃশ্যবেলী দেখতে মন দিলাম।
বেলগাড়ীর দু’দিকেই উঁচু-নীচু পর্বতমালা। পর্বত গভীর জংগলে ভর্তি। কোথাও লোকালয় আছে বলে মনে হল না। লোকালয় ছিল রেল ষ্টেশনকে উপলক্ষ করেই। এক যায়গায় দেখলাম মস্তবড় একটা কয়লার খনি। খনিটা রেল ষ্টেশনের কাছে। ইউরোপীয়ানরা সুপারভাইজারের কাজ করছে এবং নিগ্রোরা তাদের হুকুম তামিল করছে। আমি ষ্টেশনে নামিনি, গাড়ীতে বসা অবস্থাতেই খনির দৃশ্য দেখলাম। এখানে একটী রেঁস্তোরাও আছে। রেঁস্তোরায় শ্বেতকায় ছাড়া অন্যান্যের প্রবেশ নিষেধ। তা জানতে পেরেছিলাম বলেই গাড়ী হতে নামিনি। আবার গাড়ী চলল। এবার একটি ইউরোপীয়ান কাছে এসে বসে আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করল। তিনি আমার পরিচয় পেয়ে দুঃখিত হয়ে বললেন “এদেশে ভারতবাসীর কোন সম্মান নাই। লিভিংষ্টোনিয়ার কাছেই ছোট্ট একটি ষ্টেশন আছে। তার নাম হল ভিক্টোরিয়া। ভিক্টোরিয়াতে যে হোটেল আছে তাতে শুধু ইউরোপীয়ানরাই থাকতে পারে। সেখানে যদি আপনি থাকতে পারতেন তবে বড়ই সুবিধা হত। কিন্তু সে সুবিধা হতে আপনারা সবাই বঞ্চিত। ইউরোপীয়ানটিকে জানিয়ে দিলাম “ভিক্টোরিয়া ষ্টেশনে না নেমে লিভিংষ্টোনিয়াতে নামব। সেখানে আমার স্বদেশবাসী অনেক আছে। ভদ্রলোক স্বইচ্ছায় আমাকে তার নামের একখানা কার্ড দিলেন। তার নাম ছিল পেটারসন্। তিনি জাতে ছিলেন ইংলিশ, পেশায় স্বর্ণ খনির সুপারভাইজার। তাঁর মাইনে প্রচুর, মতবাদে কমিউনিষ্ট! কমিউনিষ্ট মতবাদীরা বেশিক্ষণ তাদের মনের ভাব চেপে রাখতে পারে না, সেজন্যই হঠাৎ বলে ফেললেন