“এসব বর্ণ-বৈষম্য বেশিদিন থাকবে না, আগত মহাযুদ্ধ অর্থাৎ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরই এসব চলে যাবে।” আমি শুধু বললাম বৃটেন আজ যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় অনেক বৎসর থাকবে। বৃটেন এবং জাপানের কমিউনিষ্ট পার্টির প্রতি আমার আগাগোড়াই বিদ্বেষ ভাব ছিল। বৃটেনের কমিউনিষ্ট পার্টি নামকাওয়াস্তে অথবা খেয়ালের বশবর্তি হয়ে কমিউনিজম সম্বন্ধে আলোচনা করে বটে কিন্তু অন্তরে অন্তরে তারা ঘোর সাম্রাজ্যবাদী। জাপানী কমিউনিষ্টদের কথাও সেরূপ। জাপানী সম্রাট যেমন ভাবে জাপানী সমাজ কর্তৃক পূজিত হন তেমনি বৃটেনের ইংলিশ রাজারা কমিউনিষ্টদের দ্বারা পূজিত হন।
বিশ্বমানবের উন্নতি প্রয়াসী বৃটেনের কথায় কোনরূপ শান্তি পেলাম না। তাঁকে সোজা কথায় বুঝিয়ে দিলাম বৃটিশরা যেমনভাবে সুযোগ এবং সুবিধা পাচ্ছে তাতে মনে হয় না তারা কমিউনিজম্ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। মিষ্টার পেটারসন্ আমার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। তার উদারতাপূর্ণ বাণী এবং মদের বোতল আমাকে ভোলাতে সক্ষম হয়নি।
বেলা চারটার সময় গাড়ী ভিক্টোরিয়া ষ্টেশনে থামল। অনেকগুলো শ্বেতকায় যাত্রী নেমে যাবার পর গাড়ী মন্থর গতিতে চলল। মিনিট দুই চলার পর ইঞ্জিন হতে বিপদসূচক ধ্বনি উত্থিত হল। গাড়ী ধীরে ধীরে একটি সেতু পার হল। তারপর পুরাদমে চলে লিভিংষ্টোনিয়া ষ্টেশনে থামল।
ষ্টেশনটি ছোট। আমাকে নেবার জন্য স্থানীয় কংগ্রেস প্রেসিডেণ্ট, মুসলিম সভার সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদক এসেছিলেন। মিষ্টার নাই ছিলেন হিন্দু মহাসভার সেক্রেটারী এবং কংগ্রেস প্রেসিডেণ্ট। মিষ্টার নাই-এর বাড়ীতে উঠলাম। আদর-আপ্যায়নের অভাব হল না। বিকালের খাওয়াও বেশ ভালই হল। শহরের গণ্যমান্য অনেক লোক