বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নিগ্রো জাতির নূতন জীবন - রামনাথ বিশ্বাস (১৯৪৯).pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৫
নিগ্রো জাতির নূতন জীবন

দেখতে আসেন। বুলোবায়োতে কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে, শুনে সবাই দুঃখিত হল। আমার আসবার কারণ সকলের কাছে বললাম এবং আরও জানালাম, আগামী কল্য সকাল বেলা একখানা সাইকেল দিলেই হবে। সাইকেলে করে প্রপাতটি দেখে আসতে পারব। সাইকেল নেওয়া হবে কি বাসে যাওয়া হবে তাই নিয়েই কথা কাটাকাটি চলছিল। এদের আলোচনাতে বুঝতে পারলাম আমার মত বিদেশীকে তারা স্থানীয় হাঙ্গামায় জড়াতে চান না। অবশেষে মিষ্টার নাইয়ের ছোটভাই বললেন “কুছপরওয়া নেই, আমিই ওঁকে নিয়ে প্রপাত দেখাতে যাব।”

 পরের দিন সকাল বেলা ষ্টেশনে গিয়ে দেখলাম আরও কয়েকজন ভারতীয় লিভিংষ্টোনিয়া যাবার জন্য বাসে বসে আছে। শ্বেতকায় ড্রাইভার বাস ছাড়বে না বলে গো ধরেছে। পুলিশ এরই মধ্যে এসে গেছে। আমিও বাসে বসলাম। আমাকে দেখে আরও অনেক ইণ্ডিয়ান বাসে বসল। বাসের সিট পূর্ণ হয়ে গেল। ড্রাইভার বাস ছাড়তে বাধ্য হল। আমি সকলকে বললাম “আপনারা কয়েকদিন টাকার মায়া পরিত্যাগ করে বাসে যাওয়া আসা করতে থাকুন, দেখবেন শ্বেতকায়রা আপনাদের নিয়ে যাওয়া আসা করতে অভ্যস্ত হবে এবং এদের মন হতে বর্ণ-বিদ্বেষও আপনা হতেই চলে যাবে। আপনারা সর্বদাই শ্বেতকায়দের হতে দূরে থাকেন। সেইজন্যই শ্বেতকায়রাও আপনাদের কাছ থেকে দূরে থাকে।” ঠিক হল পরের দিন থেকে এক গাড়ী লোক ভিক্টোরিয়া প্রপাত দেখতে যাবে এবং পরবর্তী প্রত্যেক গাড়ীতেই দু’একজন করে যাওয়া আসা করবে। এই নিয়ম প্রবর্তন করার জন্য যত অর্থের দরকার হবে, চাঁদা করে উঠাতে হবে এবং শ্বেতকারদের সংগে মেলামেশা করার জন্য নানারূপ উপায় উদ্ভাবন করতে হবে।