বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:নির্যাতনের বিরুদ্ধে কনভেনশন.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অনুরোধ জানাতে পারবে। যে রাষ্ট্রপক্ষের সাথে এ ধরনের কোন রাষ্ট্রের অপরাধী প্রত্যর্পণমূলক চুক্তি নেই তারা এহেন অপরাধে অভিযুক্ত অপরাধীকে ফেরত প্রদানের জন্য এই 'কনভেনশনকে' একটি আইনগত ভিত্তি হিসেবে গণ্য করতে পারবেন। অপরাধীকে প্রত্যর্পণ করা হবে কিনা, তা নির্ভর করবে অনুরোধকারী দেশের আইনে অন্যান্য পরিস্থিতি কেমন বিরাজ করছে, তার ওপর।
৩) যে সকল রাষ্ট্রপক্ষ তাদের মধ্যে সম্পাদিত অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তিতে অপরাধী ব্যক্তিকে ফেরত প্রদানের বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করেনি, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের বিধান সাপেক্ষে উক্ত অপরাধকে প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করবে।
৪) রাষ্ট্রপক্ষসমূহের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণমূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উক্ত অপরাধকে এই মর্মে গণ্য করতে হবে যে, যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সে স্থানটিই বড় কথা নয়, বিচার্য বিষয় হলো ৫ ধারার ১ উপধারায় বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী রাষ্ট্রের যে অংশে ঘটনা ঘটেছে সেই ভূখণ্ডটি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিচারের এখতিয়ারাধীন কিনা?

ধারা ৯

১) সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষসমূহ ৪ উপধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহের ব্যাপারে অপরাধ বিচারকার্যে ব্যাপকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবে এবং বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব তথ্যপ্রমাণ যে পক্ষের কাছে থাকবে তারা বিচারের স্বার্থে তা বিনিময় করবে।
২) এই ধারার ১ উপধারায় বর্ণিত দায়-দায়িত্বসমূহ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় পক্ষগুলি তাদের মধ্যে যদি পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতামূলক কোন চুক্তি থেকে থাকে, তাহলে সেই ধরনের চুক্তির সাথে সঙ্গতি রেখে পালন করবে।

ধারা ১০

১) প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষকে গ্রেফতার, অন্তরীণাদেশ বা কারাদণ্ড কার্যকর করার কাজে নিযুক্ত ও নিরাপত্তা হেফাজত, স্বীকারোক্তি আদায় বা অন্যান্য শাস্তিমূলক আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সামরিক বা বেসামরিক ফৌজি সদস্য, চিকিৎসা কর্মী, স্বীকারোক্তি আদায়কারী বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণে নির্যাতন নিষিদ্ধমূলক শিক্ষা এবং তথ্যাদি সন্নিবেশিত করতে হবে।
২) প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষকে নির্যাতন নিষিদ্ধ করার এই শিক্ষা ও তথ্য উপরোক্ত কাজ ও দায়িত্বে নিয়োজিত যে কোন ব্যক্তির জন্য ইস্যুকৃত কর্ম নির্দেশিকায় সন্নিবেশিত করতে হবে।

ধারা ১১

প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষকে তার বিচার এখতিয়ারের অধীন ভূখণ্ডে নির্যাতন রোধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বন্দীকরণ অথবা স্বীকারোক্তি আদায়মূলক আচরণের ও আনুষাঙ্গিক ব্যবস্থাপনায় স্বীকারোক্তি আদায়ের নিয়মনীতি, পদ্ধতি ও প্রথাসমূহকে নিয়মানুগভাবে পর্যালোচনার মধ্যে রাখতে হবে।

ধারা ১২

প্রতিটি রাষ্ট্রপক্ষকে এই মর্মে নিশ্চিত করতে হবে যে, যদি তার বিচারের এখতিয়ারাধীন ভূখণ্ডের কোথাও কোন দৈহিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্বাস করার মত যুক্তিযুক্ত কারণ থাকে, তাহলে উক্ত অপরাধের দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্তানুষ্ঠানের জন্য যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিতে হবে।