NN fவிஜ-fதகு মনুষ্যের যে সুখে যতটুকু তৃপ্তি, হায় ! তাহাতেই আবার ততটুকু অতৃপ্তি। আশা যখন উৎফুল্ল হইয়া উঠে, স্মৃতি তখন বৃশ্চিকের মত দংশন করে ; এবং স্মৃতি যখন পশ্চাতের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া একটুকু সুখী হইতে ইচ্ছা করে, বৰ্ত্তমান ক্ষণের অবশ্যভোগ্য অপরিত্যাজ্য যন্ত্রণারাশি তখন উহার সকল সুখেই দুঃখের গরল মাখিয়া দিতে থাকে । এ কথার এক প্রমাণ পৃথিবীর সঙ্গীত, আর এক প্রমাণ পৃথিবীর সাহিত্য। যে সকল সঙ্গীত, প্ৰমোদ-তরঙ্গে তরঙ্গায়িত হইয়া, আদ্ধার তালের ঠমকে ঠমকে, নৰ্ত্তকীর মত নৃত্য করে, কিবা প্রেমের গভীর ভাব, কিবা সাধনার গভীর চিন্তা, কিবা ভক্তি, কিবা বিস্ময়, ইহার কিছুই তন্দ্বারা প্রবাহিত হয় না। সফৱী অল্প জলে নাচিয়া নাচিয়া এবং ঘুরিয়া ঘুরিয়া খেলা করিতে পারে, অগাধ জলের রোহিত ও মকর মুহূৰ্ত্তকালও সেখানে তিষ্ঠিয়া থাকিতে পারে না । পক্ষান্তরে, যে সকল গীত প্রেমিক কিংবা সাধক ও ভক্তের হৃদয়-গহবর-নিঃসৃত গাঢ়তর সুখের গুরুভার বহন করিয়া, মন্থরগতিতে চলিতে থাকে, তাহার সমস্তই মনুষ্যজগতের বিলাপ-ধ্বনির ন্যায় শ্ৰীয়মাণ হয়। মনুষ্য সুখ-পূর্ণ হৃদয়ে, সুখের উচ্ছাসে সুখেরই গীত গায় ; তথাপি শ্রোতার চিত্ত কেমন এক অনির্বচনীয় দুঃখে পরিপ্লত হইয়া, ক্ষণে স্ফীত ও ক্ষণে অবসন্ন হইতে রহে,-মনুষ্যহীদয়ের সে গভীর সুখ গভীর দুঃখে মিশিয়া যায়।
পাতা:নিশীথ-চিন্তা - কালীপ্রসন্ন বিদ্যাসাগর.pdf/৪৪
অবয়ব