পাতা:নেতাজীর জীবনী ও বাণী - নৃপেন্দ্রনাথ সিংহ.pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সুভাষচন্দ্রের জীবনী ও বাণী

পাদ্রীদের কতকগুলি ভাল গুণ অনুকরণ করেন এবং এখানে তাঁহার ইংরাজি শিক্ষার বনিয়াদ গড়ে উঠে।

 ১৯০৯ খৃষ্টাব্দে সুভাষচন্দ্র র‍্যাভেন‍্শা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্ত্তি হন। এই স্কুল হইতে তিনি ১৯১৩ খৃষ্টাব্দে সতের বৎসর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করিয়া উত্তীর্ণ হন। ইংরাজী পরীক্ষায় তিনি এত ভাল উওর করিয়াছিলেন যে পরীক্ষক নিজেও ঐরূপ উত্তর করিতে পারিতেন না বলিয়া স্বীকার করিয়াছিলেন। তিনি বিদ্যালয়ে সর্ব্ব পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করিতেন। গৃহে যেমন মাতাপিতার চরিত্র পুত্রের চরিত্রকে প্রভাবান্বিত করে, বিদ্যালয়ে তেমন শিক্ষকের চরিত্র ছাত্রের চরিত্রকে প্রভাবান্বিত করে। আদর্শ শিক্ষক বেণীমাধব দাস মহাশয়ের মহৎ গুণাবলী সুভাষচন্দ্রের জীবনে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে।

 স্কুলে পাঠ্যাবস্থায় তাঁহার জীবনে অপূর্ব্ব পরিবর্তন ঘটে এবং ধর্ম্মের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুরাগ জন্মে। তের বৎসর বয়সের সময় হইতে সুভাষচন্দ্র শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের ও স্বামী বিবেকানন্দের পুস্তকাদি পাঠ করিতে আরম্ভ করেন। তিনি তাহাদের উপদেশমত ধ্যান-ধারণা অভ্যাস করেন এবং চরিত্রগঠন করেন। ধনীর দুলাল হইয়াও বাল্যকাল হইতেই পার্থিব সুখের প্রতি তাঁর বিতৃষ্ণা হয়। ধর্ম্মজীবন যাপন করিবার জন্য তাঁহার হৃদয়ে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জন্মে। মাতৃদেবীর সহিত তিনি প্রায়ই ধর্মালোচনা করিতেন। তিনি পড়াশুনা করা অপেক্ষা দরিদ্র