পাতা:নেতাজী সুভাষ চন্দ্র - হেমেন্দ্রবিজয় সেন.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৪

নেতাজী সুভাষচন্দ্র

হইয়া উঠিলেন এবং কালবিলম্ব না করিয়া আই. সি. এস্.-পদে ইস্তফাপত্র দাখিল করিলেন।

 তৎকালীন ভারত-সচিব মন্টেগু তাঁহাকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করিবার জন্য অনুরোধ করিয়াছিলেন; কিন্তু তিনি তাহাতে সম্মত হইলেন না। আবাল্য যে অতৃপ্তির পীড়ন তিনি মর্ম্মে-মর্ম্মে অনুভব করিতেছিলেন, পদত্যাগপত্র দাখিল করিয়া তিনি যেন তাহা হইতে কথঞ্চিৎ মুক্তিলাভ করিলেন! দেশ-মাতৃকার করুণ মুখমণ্ডল তাঁহার অন্তর-মধ্যে যেন স্পষ্ট দিবালোকের ন্যায় ফুটিয়া উঠিল। তিনি দেশসেবার কঠোর ব্রত গ্রহণে সঙ্কল্প করিলেন।

 সুভাষচন্দ্র ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ভারতে প্রত্যাবর্ত্তন করিয়া মহাত্মা গান্ধীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। মহাত্মা গান্ধী তাঁহাকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয়ের নির্দ্দেশক্রমে মাতৃভূমির সেবায় আত্মনিয়োগ করিতে উপদেশ দেন।

 মহাত্মা গান্ধীর উপদেশে সুভাষচন্দ্র বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিলেন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মহাশয়ের সহিত সাক্ষাৎ করেন। দেশবন্ধুও তাঁহাকে অসহযোগ-আন্দোলনের কর্ম্মিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত করিয়া লইলেন এবং সর্ব্বকার্য্যে স্বীয় দক্ষিণহস্তস্বরূপ বিবেচনা করিতে লাগিলেন।

 এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত হেমেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত লিখিয়াছেন—

 “জুলাই-আগষ্ট মাসে সুভাষচন্দ্র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতকার্য্য হইয়াও বাঙালী জীবনের ইন্দ্রপদ পরিত্যাগ করিয়া সেবাব্রত লইয়া দেশবন্ধুর সঙ্গে মাতৃভূমির সেবাকল্পে আত্মাৎসর্গ করেন। এই অকৃত্রিম