পাতা:নেপালে বঙ্গনারী - হেমলতা দেবী.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গুর্খা বিজয়।

৭৭

তখন ভাটগাঁও, কাটমুণ্ড, পাটন প্রভৃতির রাজগণ গৃহযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। এই গৃহযুদ্ধ ব্যাপারে ভাটগাঁওয়ের রাজা পৃথ্বীনারায়ণের সহায়তা ভিক্ষা করেন। পৃথ্বীনারায়ণ অবিলম্বে সাহায্য করিতে প্রতিশ্রুত হন। তখন ভাটগাঁও এর রাজা আপনার ভ্রান্তি জানিতে পারিয়া সকল গৃহবিবাদ বিস্মৃত হইয়া একতাসূত্রে আবদ্ধ হইয়া এই সাধারণ শক্রর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হন। পৃথ্বীনারায়ণকে একে একে এই সকল রাজ্য পরাভূত করিতে হইয়াছিল। প্রথমে তিনি কীর্ত্তিপুর আক্রমণ করেন। তিনবার চেষ্টার পর সাতমাস অবরোধ সহ্য করিয়া বিশ্বাসঘাতক ব্রাহ্মণদিগের সহায়তায় পৃথ্বীনারায়ণ কীর্ত্তিপুর অধিকার করিতে সক্ষম হন। তিনি কীর্ত্তিপুরের আবাল বৃদ্ধের নাসা ও ওষ্ঠ ছেদন করিয়া স্বীয় কীর্ত্তি ঘোষণা করেন। কীর্ত্তিপুর নামের পরিবর্ত্তে ঐ সহরের নাম নাসাকাটাপুর রাখেন। ত্বরায় পাটনও হস্তগত করিলেন। ভাটগাঁওয়ের রাজা আত্মসমর্পণ করিয়া এই প্রকার নৃশংস আচরণ হইতে আপনাকে রক্ষা করিলেন। ১৭৬৮ খৃষ্টাব্দের ইন্দ্রযাত্রার দিন অতি আশ্চর্য্য উপায়ে পৃথ্বীনারায়ণ কাটমণ্ডু হস্তগত করিলেন। সেই দিন কটমণ্ডুবাসীগণ উৎসবে উন্মত্ত, পৃথ্বীনারায়ণ কতিপয় সৈন্য সমবিভ্যাহারে কখন যে লুকাইয়া সহরে প্রবেশ করিয়াছিলেন কেহই দেখিতে পায় নাই। ইন্দ্রযাত্রার সময় রথে উঠিয়া কুমারীগণ সহর প্রদক্ষিণ করিয়া রাজবাড়ীর সম্মুখে উপস্থিত হইলে, রথের সম্মুখে রাজার গদি বিস্তৃত হইলে রাজা বা তাঁহার অনুপস্থিতে তাঁহার তরবারি তদুপরি রক্ষিত হয়। সেদিন রথ