পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্ৰথম অধ্যায়। ] · «ტ ছুটিয়া যাইত। গ্রামের প্রাচীন ব্যক্তিদিগের মুখে সেকালে । বাঘের উপদ্রপের গল্প অনেক শুনিতে পাওয়া যায়। স্বৰ্গীয় । কালীনাথ দত্ত মহাশয়ের বয়স যখন পাঁচ বৎসর ছিল তখন তাহারা কোটা ঘরে বসিয়া বাটীর সম্মুখের ঘাটে তিন দিন ধরিয়া প্ৰকাণ্ড এক ষাঁড়ের সহিত বাঘের যুদ্ধ দেখিয়াছিলেন। সেই যুদ্ধের তৃতীয় দিবস প্ৰাতঃকালে বৃষ এবং ব্যান্ত্র উভয়েই পঞ্চােত্ব প্রাপ্ত হইল! সেই ভীষণ সংগ্রামের কথা আজও সকলে বর্ণনা করে। কালীনাথ বাবুদের বাড়ীর দোতলায় একদিন বাঘ উঠিয়াছিল। বাঘের বিষয় আর একটা বড় কৌতুকের গল্প প্ৰচলিত আছে। গ্রামে বর্ষার প্রথম ধারা নামিলেই পুষ্করিণী ডোবা স্কুরিত হইয়া যায়, এবং সেই সময় শত শত কৈ মাছ জল । হইতে উঠিয়া পড়ে। পুকুর পাড়ে কৈ মাছ কানো হঁটিয়া চলিয়া বেড়ায়, তখন আবালবুদ্ধবনিতা কৈ মাছ ধরিতে ব্যস্ত হয়। সে এক বড় আমোদজনক ব্যাপার। একবার এই প্রকার । বর্ষার দিনে দুই ব্ৰাহ্মণ পণ্ডিত বলাবলি করিতে লাগিলেন- । “ভাই, আজ দুজনে ভোরে গিয়া খুব কৈ মাছ ধরা যাইবে, তুমি এসে আমাকে ডেকো ।” ভোরে এক বন্ধু উঠিয়া ভাবিলেন—“একাই সব মাছ ধরিব, বন্ধুকে ডাকিয়া কাজ নাই।” তিনি গিয়া দেখেন । অন্ধকারে বন্ধু অগ্ৰেই পুষ্করিণীর ধারে বসিয়া মাছ ধরিতেছেনআস্তে আস্তে পিছন হইতে আসিয়া অন্ধকারে বন্ধুর মস্তক । উদ্দেশ করিয়া এক চপেটাঘাত করিলেন। কিন্তু এ কি সৰ্ব্বনাশ- , এ যে বাঘ! ব্যাস্ত্ৰ মহাশয় মনের আনন্দে কৈ মাছ ধরিয়া খাইতে ছিলেন, আচন্বিতে চপেটাঘাত খাইয়া গৰ্জন করিয়া এক | দৌড়! ব্রাহ্মণ এদিকে ব্যান্ত্রের গর্জন শুনিয়াই অচৈতন্য ।