পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/২৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


DIV শিবনাথ-জীবনী । এইখানে প্ৰসন্নময়ীর জীবনের কিঞ্চিৎ পরিচয় দিই । পূৰ্বেই বলিয়াছি প্ৰসন্নময়ীর বয়স যখন একমাস, তখন হইতে তিনি আড়াই বৎসরের বালক শিবনাথের বাগদত্ত বধু ছিলেন। দশম বৎসরে বিবাহিত হইয়া তিনি 'আজীবন শিবনাথের সংসারে দুঃখ দারিদ্র্যের ভার বহন করিয়া গিয়াছেন। প্ৰসন্নময়ীকে জন্ম-দুঃখিনী বলিলে কিছুমাত্র অত্যুক্তি হয় না। কুলীন হইলেও তঁর পিতৃপরিবার অতিশয় দরিদ্র ছিলেন। সে দারিদ্র্যের তুলনা হয় না । সুতরাং প্ৰসন্নময়ী পিতৃগৃহে অতি অযত্নে প্ৰতিপালিত হইয়াছেন । বালা হইতে তিনি এমনই সেবাপরায়ণা ছিলেন যে, পাড়াপ্ৰতিবেশীর জ্ঞাতি-বেীদের অনেক গৃহকৰ্ম্ম করিয়া দিতেন । তারা আদর করিয়া প্ৰসন্নময়ীকে কিছু খাইতে দিলে, তিনি কখনই তাহা মুখে দিতে পারিতেন না, কারণ হয় তা গুহে দেখিয়াছেন মা সেদিন অভূক্ত । ঘরে হাড়ি চড়ে নাই। আমনি দৌড়িয়া আসিয়া কৰ্ম্মরত মারি মুখে পিছন হইতে সে মিষ্টান্নটুকু গুজিয়া দিয়াছেন । আমাদের কাছে পরিণত বয়সে সেই গল্প করিয়া চক্ষের জল মুছিয়া বলিতেন, “ছোট বেলার স্মৃতির সঙ্গে আমার জন্ম-দুঃখিনী মার দুঃখের কথা প্ৰাণে আঁকা আছে-আমি মার কষ্ট বুঝিতাম, মাকে কেউ গাল দিলে আমার বুক ফাটিয়া যাইত। পাড়ার বৌদের কাহারো কোন কাজ করিয়া দিলে, তারা আদর করিয়া আমার হাতে কোন খাবার সামগ্ৰী দিলেই আমি ছুটিয়া আসিয়া মার মুখে গুজিয়া দিতাম, নিক্কের মুখে কিছুতেই তুলতে পারতাম না।” প্ৰসন্নময়ীর চরিত্রের এই হইতেছে মূল সুর। তিনি আশৈশব দয়াময়ী স্নেহময়ী-ঠোর বাল্যের কথায় শুনিয়াছি