পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/৩৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একবিংশ অধ্যায়। SS যথাসৰ্ব্বস্ব আর কাহাকেও দিতে পারিলেন না । পুত্রকে দিয়া গেলেন। দুই হাজার টাকা পাইয়া শিবনাথের ভাবনা হইল সর্বাপেক্ষা সন্ধ্যায় কি হইতে পারে। আমাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “বলত মা’র প্রদত্ত দু’হাজার টাকায় কি করি ?” আমি ত স্কুল সাংসারিক বুদ্ধিবিশিষ্ট, আমার প্রাণটা ত আর আমার বাবার মত তত বড় নয়, আমি মহাবিজ্ঞতা সহকারে গল্পীর ভাবে বলিলাম, “বাবা এ দুহাজার টাকা প্ৰিয়নাথকে দাও । প্ৰিয় বেচারী গরিব, আর তোমার বৌমা যে রকম পাকা গিন্নী আর হিসাবী, ইহার এক ' কড়াও অপব্যয। তবে না ; ওদের ‘ভারী উপকার হবে।” তিনি বলিলেন, “আমি মনে করেছি এ টাকাটা ব্ৰাহ্মসমাজে আমার মা’র নামে দান করব”। আমি প্ৰতিবাদ করিলাম, “না তা করো না, ঠাকুর মা ব্ৰাহ্মসমাজের উপব হাড়ে চটা ছিলেন, তঁর আত্মার এ দানে তৃপ্তি নাই-তিনি ব্ৰাহ্মসমাজের চেযে নাতিব দরদ বেশী করতেন।” শিবনাথ এই কথার উত্তরে যাহা বলিলেন তাহা চির স্মরণীয়। সে কথা আমি ভুলিতে পাবি না-আমার মুখের দিকে তাকাইয়া বলিলেন, “আমি যে "আমার যথাসৰ্বস্ব ব্ৰাহ্মসমাজের পায় নিবেদন করে দিয়েছি, কেবল কি ঐ দুহাজার টাকা বাদ । আমার সব যে ব্ৰাহ্মসমাজেব !” লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হইল। হার মানিল আমার বিজ্ঞতা ! হার মানিল আমার ক্ষুদ্রতা ও সাংসারিক বুদ্ধি ! পিতৃদেবের বিরাট ত্যাগ কত বড় সেদিন বুঝিলাম।