পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় অধ্যায় { ○● তাহাকে একখানি উপহার দিই তিনি পড়িয়া মনে মনে সন্তুষ্ট হইয়া বলিয়াছিলেন-“এতো ইতিহাসের মত বোধ হয় না, এতো সাহিত্যের মত সুপাঠ্য। তবে বই খানিতে “ব্ৰাহ্ম’ ‘ব্রাহ্ম’গন্ধ আছে।” আমরা শুনিয়া বলিলাম-“ইতিহাসের ভিতর তিনি ‘ব্ৰাহ্ম’ গন্ধ কোথায় পেলেন ?” ঠাকুরদাদা বলিলেন-ব্রাহ্মেরা যা কিছু লেখে, জুলাইন লিখিলেও তার ভিতর ‘ব্রাহ্ম’ ‘ব্রাহ্ম’ গন্ধ থাকেই।” ব্ৰাহ্মদিগের ভাষা লিখিবার ভঙ্গী তিনি একেবারেই পছন্দ করিতেন না । কত যে বিদ্রুপ করিতেন তাহার। আর সীমা নাই। ব্ৰাহ্ম দিগকে তিনি এক অদ্ভুত জীব ভাবিতেন। সুযোগ পাইলেই বাক্যবাণে জরজরা করিতেন । শিবনাথের জনক জননী উভয়েই দীর্ঘজীবী এবং জীবনের শেষদিন পৰ্য্যন্ত মস্তিষ্কে পূর্ণ শক্তি বিশিষ্ট এবং কাৰ্যক্ষম ছিলেন। হরানন্দ ভট্টাচাৰ্য্যের পক্ষে, আশী বৎসর বয়সে দিবা দ্বিপ্রহরে আহার করিয়া কর্ণওয়ালিশ ট্র্যাট হইতে কালীঘাট হাঁটিয়া যাওয়া কিছুমাত্র কঠিন ব্যাপার ছিল না। নিদ্ৰালু অলস বৃদ্ধ এ পরিবারে কেহ কখন দেখে নাই। মনের উজ্জ্বলতা, বাক্যের সরলতা, কাৰ্য্যের উৎসাহ, এ পরিবারের সকলের ভিতরই দেখিতে পাওয়া গিয়াছে। গোলোকমণি পুত্রের গৌরবে আপনাকে মনে মনে সৌভাগ্যবতী। বলিয়া বিবেচনা করিতেন। একবার শুনিলেন পাড়ার কোন স্ত্রীলোক বিধৰ্ম্মী বলিয়া তার পুত্ৰকে নিন্দা করিয়াছে। অমনি গোলোকমণি সম্পদ্ধাভরে বলিয়া উঠিলেন-“কি তোরা আমার ছেলের নিন্দে করিস, বেটাত এক এ দেশের ভিতর আমিই প্রসব করেছি। গুলো লক্ষ্মীছাড়ীরা, তোরা তা পাট প্রসব করেছিস, আমার বেটার আবার নিন্দে করিসি! খবরদার।” গোলোকমণির ভয়ে শিব