পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় অধ্যায় । 8s হােতদিয়া গায়ে হাত বুলাইয় বার বার বলিতে লাগিলেন-“বাবা আমার! আমার বাবা, আমার ধন !” এই বলিয়া মনে মনে কত আশীৰ্বাদ করিলেন। শিবনাথ মুখে একটু জল দিতে গেলেনতখনও এত সজ্ঞান যে বিধৰ্ম্মী ছেলের হস্তে জল গ্রহণ করিলেন না, মৃদুভাবে বলিলেন-“আর কেন বাবা, আর নয় !” এ ক্ষোভ তঁহারা কোথায় রাখিবেন—একমাত্ৰ পুত্ৰ বৰ্ত্তমান থাকিতে কন্যা ঠাকুরদাসীকে পিতা মাতার মুখাগ্নি করিতে হইল!! গোলোকমণি ত চলিয়া গেলেন, হরানন্দ আরও তিন বৎসর জীবনের সঙ্গিনীকে হারাইয়া এ পৃথিবীতে রহিলেন। তখন কনিষ্ঠা কন্যা কুসুম তাহাকে অধিকতর যত্ন শুশ্রুষা করিতে লাগিলেন। এই কুসুমবালাকেই তিনি পৈতৃক সম্পত্তি তাহার পিতৃভক্তির পুরস্কার স্বরূপ দান করিয়া গিয়াছেন। পত্নীর মৃত্যুর পরে তার পালিত বিড়াল এবং প্লক্ষীর সেবায় হরানন্দ নিযুক্ত হইলেন। চিরদিনই ইত্যর প্রাণার উপর তার দয়া । প্ৰতিদিন আহারের পর পাড়ার কুকুরগুলিকে নিজ হস্তে ভাত দিতেন। গৃহপালিত সকল পশুর উপর তঁর অত্যন্ত যত্ন ছিল। গোলোকমণির শেষ বয়সে দুটা বিড়াল ছানা ছিল। বিড়াল দুটির সুন্দর রূপ দেখিয়া হরানন্দ তাদের নাম “গালচি” ও “দুলচি” রাখিয়া দিলেন। শিবনাথের জননীর পাখী পোষার ভারি সখ ছিল। গৃহিনী যখন চলে গেলেন, তখন তঁর পাখী আর বিড়ালের সেবায় হরানন্দের দিন কাটিতে লাগিল। একদিন সকালে উঠিয়া কন্যাকে ডাকিয়া বলিলেন, “ফুসী, কাল থেকে সকালে আধাসের দুধ রোজ করিস”- কুসুম—“কেন বাবা ! তুমি সকালে দুধ খাবে ?” পিতা-“না। আমি কেন সকালে উঠে দুধ খেতে গেলাম, বলি