পাতা:পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর জীবনচরিত.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় অধ্যায়। (፩ዓ হইতেন, বিস্তর প্রহার করিয়াও তেঁাহাকে জব্দ করিতে পারেন। নাই। সকলে শিবনাথের জননীকে বলিত তোমার পেটে একটা কালাপাহাড় জন্মিয়াছে-মাতার মুখ তুলিবার উপায় ছিল না । জীবনের শেষদিন পৰ্য্যন্ত গোলকমণি বলিতেন, “ও যে এমন হবে তা আমি আগেই জেনেছি, সেই ছয় দিনের ছেলে থেকে জেনেছি। ” শিবনাথ আশৈশব জীব জন্তুর একান্ত ভক্ত ছিলেন। তিনি নিজেই বলিয়াছেন “পুষি নাই এমন জন্তুই নাই। টুনটুনি, বুলবুলি, দয়েল, ছাতাবে, শালিক, টিয়া, পীপড়া, ফড়িং, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি সকল প্রকার প্রাণীই পুষিয়াছেন। পীপড়ার গতি বিধি দেখিবার জন্য উপুড় হইয়া মাটীতে পড়িয়া থাকিতেন। পাড়া গেয়ে ছেলে, বনে বনে পাখী ধরিয়া, ফড়িং ধরিয়া বেড়াইতেন। তঁর আত্মচরিতে জীব জন্মর বিষয় অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প লিখিয়াছেন; কিন্তু চিরদিন যে তঁার পোষা শালিখ টুনো পাখীর গল্প আমাদের বলিতেন তাহার কথা উল্লেখ করেন নাই। এই আশ্চৰ্য্য পাখীটীর কথা জননী প্ৰসন্নময়ীর নিকট শুনিয়াছি । তিনি বিবাহের পর শ্বশুর বাড়ীতে গিয়া “টুনো”কে দেখেন এবং তিনিই টুনোকে উড়াইয়া দেন। টুনো একটা শালিক পাখী, শিবনাথ তাহাকে অতি শৈশবে বাসা হইতে আনেন। অনেক কষ্টে অনেক পরিচর্য্যায় তাহার জীবন রক্ষা হয়। ক্ৰমে পাখীটা খাচায় থাকিয়া বড় হয়, এবং অনর্গল মানুষের মত কথা কহিতে শেখে। পাখীটার অতি আশ্চৰ্য্য কথা কহিবার শক্তি ছিল, ঠিক যেন মানুষ কথা কহিতেছে এরূপ বোধ হইত। শিবনাথকে কখন, “দাদা” কখন শিবনাথ বলিয়া পাড়া কাপাইয়া চীৎকার করিয়া ডাকিত। শিবনাথের